শনিবার,৬ জুন, ২০২০ অপরাহ্ন

অনলাইন ক্লাসে অনিচ্ছুক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০ ১৬ ৪৫

আজিজুর রহমান-

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমনটা জানিয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ইতোমধ্যে ইউজিসি ও শিক্ষামন্ত্রাণলয় থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কি ভাবছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? এ নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নির্ভর গ্রুপগুলোতে জরিপ চালিয়েছে 'ক্যাম্পাস থেকে বলছি' এডমিন প্যানেল।

এই জরিপে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা গেছে, ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন না করার পক্ষে মতামত দেয়।

সারা দেশ কাঁপছে করোনায়। এর ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিদিন শত শত মানুষ। যুক্ত হচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনা ক্রান্তিলগ্নে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো যখন তাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে ইন্টারনেটের খরচ বহন করা তাদের উপরে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করা ছাড়া কিছু নয়।  অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমজীবী মানুষের আয় বন্ধ। এদের পরিবারের সন্তানেরাই তো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।

চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ার পর থেকে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই তাদের বাসায় অবস্থান করছেন। নিজ এলাকায় ওয়াইফাই তো দূরে থাক, অনেক ক্ষেত্রে ভালোভাবে নেটওয়ার্কও পায় না। এ ধরনের দুর্বল ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস করা একরকম অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে অসম্ভব।

এর আগে শিক্ষার্থীদের পক্ষ দাবি উঠে, তারা অনলাইন ক্লাস করতে অনিচ্ছুক। এ নিয়ে তারা ক্লাস বর্জনেরও ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ইউজিসিতে একটি স্বারকলিপিও প্রদান করা হয়। যেখানে অনলাইন ক্লাস না করার পক্ষে কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরে। তবে স্বারকলিপি দিলেও কোন কাজ হয়নি। 

গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জানান, করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের বিশ্ববিদ্যালগুলোতে ক্লাস, পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও ভর্তি কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অনলাইনে চলবে এসব কার্যক্রম।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে কতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে তা বলা যাচ্ছে না। এ জন্য দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনলাইনের আওতায় ক্লাস কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাদের সক্ষমতা নেই ইউজিসিরর সহযোগিতায় সেই পরিবেশ তৈরি করতে বলা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও অনলাইন কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। ছুটি দীর্ঘায়িত হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে সেশনজটে না পড়তে পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রস্তুতি নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন দীপু মনি।

এমতাবস্থায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস না করার পক্ষে ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী মতামত দিয়েছেন। এমনটাই ফেসবুক জরিপে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন এডমিন প্যালেনের সদস্য আরজু চৌধুরী। 

আরজু চৌধুরী জানান,অনলাইন জরিপে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে অনলাইন ক্লাস না করার পক্ষে ভোট দেন ৪১৭ জন, যা শতাংশে ৭৭ শতাংশ। বিপক্ষে ভোট দেন ৮৯ জন, শতাংশে ১৭ শতাংশ। অন্যান্য মতামত প্রদান করেন ৩৮ জন শিক্ষার্থী, যা শতাংশে ৬ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত বিবেচনা করলে বাংলাদেশ এখনো অনলাইন ক্লাস নেয়ার পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করেনি এবং সব শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে অনলাইনে ক্লাস করাও অসম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস একটি বাড়তি চাপ হিসেবেও দেখছে শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin