বুধবার,১৬ জুন, ২০২১ অপরাহ্ন

অরক্ষিত সীমান্ত, করোনা ঝুঁকিতে লালমনিরহাট

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১ ০০ ০১

হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাটঃ 

লালমনিরহাট জেলার ২৮৪ কিলোমিটার ভারত সীমান্ত পথের ৫৪ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে দু’দেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত। অরক্ষিত সীমান্তের কারণে করোনা ঝুঁকিতে আছে জেলার ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ। এতে জেলায় বেড়েছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও।

জানা গেছে, সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে জেলার মোট সীমান্ত পথে বিজিবির তিনটি ব্যাটালিয়ন তথা ১৫, ৫১ ও ৬১ ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়াবিহীন সীমান্ত পথে সীমান্তরক্ষীদের নজরদারী ফাঁকি দিয়ে চলছে চোরাকারবারি ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত। দুই দেশের দালাল চক্রের মাধ্যমে চলছে মানুষ পারাপার। এদিকে আগামী কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তের অন্ততঃ ৩০টিরও বেশি পয়েন্ট দিয়ে প্রায় প্রতিরাতে গরু পারাপার করছে শতাধিক চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। এসব গরু আবার প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাটবাজারে। এছাড়া জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে কয়েক শত ট্রাক। এসব ভারতীয় ট্রাকের সাথে আসা চালক ও সহকারী চালকরা স্থলবন্দরের বিভিন্ন হোটেলে খাবার খাচ্ছে এবং চলাফেরাও করছেন।

এদিকে বেশ কয়েকটি সীমান্ত ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলায় কৃষি কাজের নাম করে ভারতীয়রা যেমন বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন তেমন বাংলাদেশীরাও ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। এসব লোকের অনেকের রয়েছে দু’দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। মাদক ব্যবসায়ীরা দুই দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে অরক্ষিত সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে গিয়ে অবস্থান করছে। আর এভাবেই চলছে সীমান্ত পথে ভারত-বাংলাদেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত। এ কারণে  করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার ১৫লক্ষাধিক মানুষ।

সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই স্কুল শিক্ষকসহ এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪০২ জনের নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ১ হাজার ১৬৩ জন করোনা সনাক্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারেও ১১জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে লালমনিরহাটে করোনা শনাক্তের হার ৩৭-৩৮ শতাংশ, যা দুই মাস আগেও ছিল ১০-১১ শতাংশ।

তিনি বলেন, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। আর গত ২৪ মে থেকে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় চলছে লকডাউন। সীমান্ত পথে সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করলেও লালমনিরহাটের অরক্ষিত সীমান্ত পথে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়নি। ফলে সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত ঝুঁকিতে রয়েছেন জেলার মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin