বুধবার,১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

আজ হিমুর জন্মদিন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ নভেম্বার, ২০১৯ ১৩ ১১
  • 197 বার পঠিত

আশরাফি দিবা-

মনে পড়ে সেই বাকের ভাইয়ের কথা। গলায় চেইন ঝুলিয়ে, শার্টের বোতাম খোলা বাকের ভাইয়ের সেই স্টাইল সাড়া ফেলে দিয়েছিল নব্বই দশকের তরুণদের মাঝে। সেই সময় হাতের আঙ্গুলে চেইন ঘুরানোর বাকের ভাইয়ের সেই স্টাইলটি রপ্ত করার চেষ্টা করত ছোট থেকে বড় সকলে। পাড়ার চায়ের দোকানে দোকানে বাজতো বাকের ভাইয়ের প্রিয় গান  “হাওয়া মে উড়তা যায়ে” । 

ওই সময়ে বাকের ভাইয়ের ফাঁসির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল অসংখ্য মানুষ। শাহবাগ উত্তাল হয়েছিল “‘বাকের ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে…’ এই স্লোগানে। এমনকি  প্রযোজকের কাছে নাটকের শেষে বাকেরকে বাঁচিয়ে রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও।   

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধকেও গ্রাহ্য করেননি বাকের ভাইয়ের স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন স্বাধীনচেতা লেখক, বিশ্বাস করতেন লেখকের স্বাধীনতায়, পরিচালকের স্বাধীনতায়। তাই সব কিছু উপেক্ষা করে কার্যকর হয় বাকের ভাইয়ের ফাসি। 

শুধু বাকের ভাই নয়, তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল হিমু, মিসির আলি, শুভ্র, মুনার মতো অসংখ্য চরিত্র যা বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছিল। 

হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে গভীর রাতে হিমুর রাস্তায় ঘুরাঘুরি, ছাদে দাঁড়িয়ে রুপার জন্য অপেক্ষা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকানো মিসির আলির চাহনির সাবলীল বর্ণনা পাঠককে কখনও হিমু আবার কখনও মিসির আলী চরিত্রে ভাবিয়ে তুলেছে।

বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি ছিলেন সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তার খ্যাতি ছিল অনন্য।

তাঁর সৃষ্ট  ‘বাদশাহ নামদার’-এর মতো ঐতিহাসিক রচনা, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’র মতো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কিংবা ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’র মতো সায়েন্স ফিকশন  স্ব স্ব ক্ষেত্রে সর্বদা আদর্শ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। 

‘শ্যামল ছায়া, ’ শ্রাবন মেঘের দিন, আগুনের পরশমণি, দুই দুয়ারির মত সফল এবং সুস্থ ধারার সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে দর্শকদের পুনরায় হলমুখী করেছেন তিনি।

গান লেখাতেও তিনি হয়ে আছেন কালজয়ী গীতিকবি।‘যদি মন কাঁদে’, ‘আমার আছে জল’, ও আমার উড়াল পঙ্খীরে, ও কারিগর দয়ার সাগর, মরিলে কান্দিস না আমার দায় গানগুলো কখনই হারিয়ে যাবার নয়।

তিনি তাঁর এই সকল অনবদ্য সৃষ্টির স্বীকৃতিও পেয়েছেন ঢের। লেখক শিবির পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কারসহ দেশ ও বিদেশের অনেক সম্মাননা রয়েছে তাঁর পকেটে। তবে খুব সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন বাংলা ভাষায় বিশাল এক পাঠক সমাজ। তাঁর পাঠকদের অধিকাংশই তরুণ।  তাই একথাও বলা যায়—তিনি তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের দিকে টেনে এনেছেন। 

গাজীপুরে ‘নুহাশ পল্লী’ এবং সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে ‘সমুদ্র বিলাস’ হুমায়ূন আহমেদের প্রকৃতিপ্রেমীর অন্যতম উদাহরণ। 

নীরবে নিভৃতে বসে তিনি সৃষ্টি করেছেন এক একটি কালজয়ী চরিত্র আর লিখে গেছেন পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। কিন্তু গল্পগুলোর মতোই বড় অসময়ে অনেক কথা বাকি রেখেই সমাপ্তি ঘটেছে এই গল্পের জাদুকরের জীবনের। 

আজ হিমুর স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদ নেই । কিন্তু হাজারো প্রেমিক-প্রেমিকার নীল শাড়ি আর হলুদ পাঞ্জাবীতে বেঁচে আছে হিমু আর রুপা। প্রকৃতির রহস্যে আজও মিশে আছে মিসির আলী।  

আজ প্রয়াত এই কথাসাহিত্যিক ও নন্দিত নির্মাতার ৭১তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন গল্পের জাদুকর। 

আন্দোলন৭১/এডি 


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Rokonuddin
Theme Developed BY Rokonuddin