বুধবার,১৬ জুন, ২০২১ অপরাহ্ন

ঈদে নতুন পোশাক কি জুটবে জারিন ও উমামা'র?

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ মে, ২০২১ ০০ ০৬
ছবি-আন্দোলন৭১ নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী-

পটুয়াখালীর বাউফলে পিতৃস্নেহ ও ভরনপোষন বঞ্চিত জারিন তাসনিম (৯) ও উমামা তাইয়েবা (৭) নামের দুই শিশু কন্যা ঈদে নতুন পোশাক পড়তে চায়। অথচ তাদের মা’র বয়স বেশি শুধু এই অযুহাতে বাবা তাদের মাকে একতরফা তালাক দিয়ে দাদা দাদুকে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। বাবা কোন খোজ খবর নেয় না ও টাকা পয়সা দেয় না। বাড়ীর লোকজন যা দেয় তা দিয়ে কোন রকম বেচে আছে তারা। ঈদে সবাই নতুন জামা কাপড় কিনলেও তাদের দু'বোনের ভাগ্যে জোটেনি।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের আমির মোল্লা বাড়ীতে বসবাসরত জারিন তাসনিম ৯৭ নং মিয়াবাড়ী সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণী ও ছোট বোন উমামা তাইয়েবা একই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। দু'বোনই মেধাবী ছাত্রী। ক্লাসে প্রথম স্থান ও উপজেলা পর্যায়ে পুরস্কৃত তারা।

জানা গেছে, উপজেলার বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক মাষ্টার'র মেয়ে রাহানি জান্নাত টুলু বাউফল ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের আব্দুস সত্তার মোল্লার ছেলে সাইফুল্লাহ’র সাথে প্রায় ১১ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।  বিবাহের পর সুখে শান্তিতেই তাদের সংসার চলে। তাদের ঘরে জারিন (৯) ও উমামা (৭) নামের দুটি শিশু কন্যা

সন্তান জন্মগ্রহন করে। রাহানি জান্নাত টুলুর বাবা প্রায় ১ বছর পূর্বে মারা যান। আর তখন সাইফুল্লাহ তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ীর সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। স্ত্রী টুলু বেগম সুখে শান্তিতে বসবাসের কথা চিন্তা করে ভাইদের বুঝিয়ে ২লাখ টাকা নগদ এনে দেয়। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি টুলু বেগমের। স্বামী সাইফুল্লাহ হাইকোর্টের আইনজীবির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সুবাধে ঢাকাতেই থাকতে হয় সাইফুল্লাহকে। এক পর্যায়ে সাইফুল্লাহ দ্বিতীয় বিয়ে করে বয়স বেশি এই অজুহাতে প্রথম স্ত্রী রাহানি জান্নাত টুলুকে একতরফা তালাক দিয়ে দু'টি শিশু সন্তান সহ বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেন। কোন উপায় না পেয়ে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ীতে আশ্রয় নেয় টুলু বেগম। রাহানী জান্নাত টুলু বেগম তালাকের বিপক্ষে আদালতে মামলা করলে সাইফুল্লাহর জেল হয়। তালাক প্রত্যাহার ও স্ত্রী টুলুকে নিয়ে ঘর সংসার করবে বিজ্ঞ আদালতে অঙ্গীকার করে সাইফুল্লাহ জামিনে এসে স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়ীতে আসে। সাইফুল্লাহ ঢাকায় কর্মস্থলে যান। পরবর্তী তারিখে মামলা তোলার জন্য রাহানি জান্নাত টুলু তার ভাশুর আবুবক্কর সিদ্দিক কে নিয়ে আদালতে যান। আইনি জটিলতার কারনে ওই দিন মামলা নিস্পতি করা সম্ভব হয়নি টুলু বেগমের।

এদিকে আদালত থেকে বাড়ীতে এসে দেখতে পান ঘরে তালা লাগানো। অত্যন্ত চতুর সাইফুল্লাহ ঘরে তালা লাগিয়ে তার মা বাবাকে অন্যত্র সরিয়ে রাখেন। দুটি শিশু সন্তান তার মাকে নিয়ে তালা বদ্ধ ঘরের সামানে অবস্থান করেন।  এভাবে কয়েকদিন অতিবাহিত হলে বাড়ীর লোকজনের সহায়তায় তার বড় মেয়ে জারিন তাসনিম তালা ভেঙ্গে মাকে নিয়ে ঘরে অবস্থান করেন। বাড়ীর লোকজনের দেয়া সহায়তায় দুই শিশু সন্তান কোন রকম খেয়ে না খেয়ে বাবার ঘাড়েই আছেন।

জারিন তাসনিম বলেন, বাবা তাদের কোন খোজ খবর নেয় না।   এমনকি কোন ভরন পোষনও দেয় না। বাড়ীর লোকজন যা দেয়, তাদিয়েই মাকে নিয়ে কোন রকম দিন পার করছি। সব ঘরের ছেলে মেয়েরা নতুন পোশাক কিনলেও আমরা বঞ্চিত। আমরা নতুন জামা কাপড় চাই।

এ বিষয়ে জানতে সাইফুল্লাহ;র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin