মঙ্গলবার,২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ অপরাহ্ন

করোনার নেতিবাচক দিক ও ক্ষানিকটা ইতিবাচক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০ ১৭ ৩৮

শিলা আক্তার মৌ-

করোনা ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিক থেকেই মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর বিস্তার এবং বিস্তার রোধ করার উপায় কি? প্রথম থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ মানুষকে সচেতন করছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা স্বাস্থ্যে প্রতি সচেতনতা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান করা, পরিমিত খাবার খাওয়ার এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এবং পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের প্রতি যত্নশীল হয়েছেন অনেকে।

আমরা সাধারণত একটানা এতদিন সাধারন ছুটি পাই না। সেই এস এস সি পরীক্ষার পর টানা তিন মাস ছুটি তারপর কলেজ, ভার্সিটি, চাকরি, বিয়ে-সাদি তারপর একটি সময় জীবনের ইতি! তার মাঝে অনেক কাজ করা হয় না সময় হয়ে উঠে না পরিবারে সাথে কিছু সুন্দর মুহুর্ত গড়ার। 

সময়ের সাথে সাথে শখের জিনিসগুলোতে ধুলো জমতে থাকে। ধুলো  জমা গিটার, বইগুলো পড়া হয় না। প্রিয় কিছু টিভি সিরিজ  সিনেমা অদেখা থেকে যায়। আজ আমাদের নেই সময় মত বাস ধরার তাড়া নেই কাজ বা পড়াশুনার চাপ। এসময়টাতে তৈরি হোক সকলের অসাধারণ কিছু মুহুর্ত।   

এ সময়টাতে শারীরের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও আমাদের নজর রাখবে হবে।কারন 'আমরা হয়তো কোনও কারনে খুব বেশি যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছিলাম। এই সময়টা বলে দিল-মনের খোড়াক নিয়েও ভাবতে হবে'।

আমরা কি কখনো খেয়াল করেছি করোনা ভাইরাস আমাদের কি শিখিয়ে যাচ্ছে। করোনা কালীন সময়ে দেখেছি আমরা কিছু সত্যিকারের হিরো যারা নিজের জীবন বাজি রেখে এযুদ্ধে নেমে এসেছেন। এ সময় দেখেছি আমরা বিদ্যানন্দের মত ফাউন্ডেশন যারা বরাবরের মত মানুষ মানুষের জন্য শব্দটিকে মোটা দাগে প্রকাশ করেছে।

যদিও আমাদের জনজীবন অনেকটা থমকে গিয়েছে। এসেছে অনেক পরিবর্তন। তবুও মানুষ থমকে নেই সকল কাজকর্ম করছেন অনলাইনে। মোটামুটি সবকিছুই এখন অনলাইন কেন্দ্রীক। কেনাকাটা থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসা সেবাও পাওয়া যাচ্ছে অনলাইন এর মাধ্যেমে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এই ক্রান্তিকালের সময় অনলাইন এ ক্লাস করাচ্ছেন। শুধু এ সময় টা মোকাবেলা করার জন্য।

আমাদের দেশের যখন লকডাউন বা সাধারন ছুটি আদেশ হতে পারে বলে এমন খবর জানাজানি হচ্ছিল ঠিক তখই একদল মানুষ প্রয়োজনীয় দ্রব্যপণ্য অতিরিক্ত মজুদ করা শুরু করে দিয়েছিল ঠিক অপরদিকে আরেকসংখ্যক মানুষ পরিমিত রেঁধেছে, খেয়েছেন আমি ব্যক্তিগত ভাবে বলতে গেলে, আমার পরিবার বা আমার পরিচিত পরিজনেরা অনেকেই পরিমিত খাবার রান্না করতেন পরিবারে জন্য। কোথাও না কোথাও এ সময়টা আমাদের অপচয় রোধ করা শিখিয়েছেন। 'অতিরিক্ত বিলাসিতা আরাম আয়েশ ছাড়াও যে বেঁচে থাকা যায় তা আমরা শিখে গিয়েছি'।  

মানুষ এখন স্বাস্থ্য সেবার প্রতি অনেকটা সচেতন হয়ে গিয়েছে। করোনা প্রাদুভার্বের পূর্বে যখন কেউ জ্বর বা ঠান্ডা হত তখন। অনেকে ডাক্তারের পরামর্শ বা মেডিসিন নিতেন না তখন এটা আবহাওয়া বা ফ্লু হিসেবে উপেক্ষা করতেন। এখন করোনার ভয় ই হোক বা সুস্থ হওয়ার জন্য হলেও মানুষ জ্বর ঠান্ডায় বিশেষজ্ঞের সরণাপন্ন হন। তবে আমরা যারা জ্বর কে আবহাওয়া বা ফ্লু হিসেবে উপেক্ষা করি। জ্বর আসলে মানব শরীরের কোনো রোগ এর সাইন বা লক্ষন। তাই একে ক্ষুদ্র বলে উপেক্ষা করা যাবে না কখনোই।

করোনায় কারনে সাধারন ছুটির কারনে যেমন পারিবারিক নানা সহিংসতা তৈরি হয়েছে ঠিক তেমনি অপরদিকে সাধারন ছুটির ফলে কর্মব্যস্ত বাবা মায়ের সাথে ছোট্ট শিশুটি আনন্দগন মুহুর্ত কাটাতে পারছে। এর ফাকে কমে এসেছে ধর্ষণ,  গুম-খুন, এলাকা ভিওিক সহিংসতার মত ঘটনা।

করোনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো অনেক কিছুই!

করোনা মানুষকে অনুকূল প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে শিখিয়ে যাচ্ছে। আবারও নতুন সূর্য উঠবে পৃথিবীতে, আবারও মানুষ প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেবে এ প্রকৃতির মাঝে। নতুন করে আবার বেঁচে থাকার কারন খুঁজবে মানুষ। তবে এসময়টা পুরো বিশ্ব একটি অন্ধকার সময় পাড় করছে।

তবে হ্যা অন্ধকার না থাকলে তো আর আলোর স্বাদ আমরা পেতাম না। সবাই সুস্থ থাকুক, সুন্দর থাকুক, মানসিক ভাবে শক্তিশালী হোক। এ ক্রান্তিকাল তারাতাড়ি সেড়ে যাক।

লেখক: শিক্ষার্থী; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin