শনিবার,৬ জুন, ২০২০ অপরাহ্ন

করোনা ঝুঁকিতে শিশুদের রক্ষায় করণীয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০ ২১ ৩২

বিথী রানি মন্ডল-

বিশ্বব্যাপী আজ করোনা নামক এক মহামারী ভাইরাসের সংক্রমণে সবাই দিশেহারা। যার ভয়াল থাবায় আমাদের মানবসভ্যতা থমকে গেছে। পুরো বিশ্ব এনিয়ে আতঙ্কিত। বাংলাদেশ ও তার ব্যতিক্রমে নয়। আমাদের দেশেও এখন পর্যন্ত এনিয়ে হিমসিম খাচ্ছে।

ভাইরাসটি প্রথম বাংলাদেশে শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এরপর কোমলমতি শিশুদের কথা চিন্তা করে ২৬ মার্চ থেকে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসে। একইসাথে বন্ধ করে দেওয়া হয় হাট বাজার, দোকানপাট এবং যানবাহন, লোকজনের চলাচলের ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয় বিধিনিষেধ।

এরপর সারা দেশে তৈরি হয় লকডাউনের মতো পরিস্থিত। এমন অবস্থায় আক্রান্তের সংখ্যাও যখন বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। কেউ যখন বের হচ্ছিলনা ঘরথেকে ঠিক এমন সময় ১০ মে থেকে বাংলাদেশে লকডাউন শিথিল করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন বেড়েছে ঝুঁকি, তেমনি উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় আছে শিশুরা। বেড়েছে ঝুঁকিও। কারণ বাংলাদেশেও যেখানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকা থেকে বাদ নেই শিশুরা।

আর দীর্ঘদিন ধরে গৃহবন্ধী থাকা মানুষ যখন বাইরে বের হচ্ছে। ঠিক এইসময়ে আক্রান্তের ঝুঁকিও অধিক হচ্ছে। কেননা সকলেই কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি। তাই তারা কাজের জন্য বাহিরে যাচ্ছে। এতে করে তারা নিজেদের মৃত্যু ঝুঁকি যেমন বহন করছে তেমনি তাদের পরিবারের শিশু, পরিবারের সদস্য এবং আশেপাশের মানুষের জন্য ও আক্রন্ত এবং মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

একইভাবে শিশুরাও বাহিরে যাচ্ছে খেলাধুলাসহ নানা কারণে। এতে করে তাদের আক্রান্তের সম্ভবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে লকডাউন খুলে দেওয়ার কারণে দেখা যাচ্ছে পূর্ববর্তী দিনগুলোর থেকে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন যায়গায় তৈরি হচ্ছে লোকসমাগম। যাতে করে সাধারণ মানুষ এবং শিশুরা নিজেদের অজান্তেই ঝুঁকি বাড়িয়ে চলছে।

তাই প্রথমে এই পরিস্থিতিতে আমাদের নিজেদের সুস্থ থাকতে হবে। নিজের যত্ন নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিশু কিন্তু বড়দের আচরণ অনুকরণ করে থাকে। শিশুর বাবা-মা/অভিভাবক নিজেরা কঠোরভাবে স্বাস্থ্য বিধি (হাত ধোয়া, হাঁচিকাশির শিষ্টাচার মানা, ঘরে থাকা) মেনে চলবে।

শিশু ফোরামের প্রতিনিধিরা মনে করেন, দেশের এই কঠিন সময়ে নিজের সন্তানদের যত্ন নিতে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করা যেতেই পারে।

যেমন- শিশুদেরকে আমরা ভীত হতে দেব না। তাদেরকে করোনা মহামারী সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানাবো। তাদেরকে বলতে হবে যে, আমরা তাদের সাথেই আছি এবং তাকেও আমরা নিরাপদ রাখতে চাই। কারণ অল্প কিছু সচেতনতা অবলম্বন করলেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি শিশুদের অন্যদের তুলনায় কম। সমাজের বাকি মানুষদের কথা চিন্তা করার মধ্য দিয়ে শিশুদের মানসিক উন্নতি ঘটানো যেতে পারে।

প্রতিবেশী/আত্মীয়দের ফোন করে খোঁজ নেয়া, সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য সাহায্যের ব্যবস্থা করা বিভিন্ন কাজে উৎসাহ দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে।সন্তানদের সাথে গুণগত সময় কাটানোর এটি একটি বড় সুযোগ, তাই শিশুদের সাথে খেলাধুলা করা। একসাথে বসে সিনেমা দেখা, ঘরের কাজ শেখানো, রান্না করা, গাছের যত্ন নেওয়ার মধ্যে দিয়ে শিশুদের ব্যস্ত রাখা যেতে পারে। এসময় সন্তানদের অনুভূতি বুঝতে হবে। এই মহামারী পরিস্থিতি তাদের মানসিকভাবে কতটুকু বিপর্যস্ত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তাদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে।

শিশুদের হাত ধোয়া, হাচিকাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাত না পরিস্কার করে চোখ, মুখ, নাক, স্পর্শ না করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যথাসম্ভব রুটিন মেনে খাওয়া, ঘুম, হালকা ব্যায়াম, পড়তে বসা; এ কাজ গুলো করা। মাঝে মাঝে বারান্দা বা ছাদে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। সতর্ক থাকতে হবে অন্য সময়ের মত এই সময়েও। স্মার্টফোন, ট্যাব, টিভি, কম্পিউটার ব্যবহার সীমিত করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে তারা যেন কোনো ভুল তথ্য না পায়।

অটিজমের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের হাত ধোয়া, জীবাণুনাশক ব্যবহার, হাঁচিকাশির শিষ্টাচার শেখাতে গান, ছবির কার্ড, গল্প বলা, ইশারা ইত্যাদির সাহায্য নিতে হবে। তাদেরকে বিষয়টি বোঝার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। অটিজম শিশুদের অনেকেই ধীরে শিখে। তাই তাড়াহুড়ো করা যাবে না। শিশুর স্কুল, বিশেষায়িত শিক্ষক, চিকিৎসক এবং যারা বিপদে সাহায্য করতে পারে তাদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। আপনার অনুপস্থিতিতে অটিজম শিশুর জন্য অবশ্যই বিকল্প যত্নকারীর ব্যবস্থা করতে হবে।

সকল রোগের চিকিৎসা হলো সচেতনতা। তাই সকলের উচিৎ নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজে সচেতন হতে এবং অন্যকে সচেতন করতে। সকলে সচেতন হয়ে নিজ ঘরে অবস্থান করা। অন্যকে ঘরে থাকার জন্য সচেতন করা। জনগন সচেতন হলে দূর হবে এই ভাইরাস, বাঁচবে সোনার বাংলাদেশ; এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজে সুস্থ থাকি সাধারন মানুষ এবং শিশুদেরকে সুস্থ রাখি। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

লেখক: শিশু সাংবাদিক এবং সৃজন শিশু ফোরাম সভাপতি

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin