বুধবার,১৬ জুন, ২০২১ অপরাহ্ন

গলাচিপায় ৪৮ কেজিতে ধানের মন!

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ মে, ২০২১ ২০ ২৯
ছবি-সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী-

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে ধান বিক্রি করতে এসে আড়তদার ও ফরিয়া চক্রের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ধান বাজারে আড়তদার ও ফরিয়া চক্রটি সংঘবদ্ধ হয়ে ৪০ কেজিতে এক মণের পরিবর্তে ৪৮ কেজি নির্ধারণ করায় প্রতি মণে ১৫০ টাকা  ঠকছে দরিদ্র কৃষক।

ভুক্তভোগী কৃষকের অভিযোগ, নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে  দীর্ঘদিন ধরে ওজনে এমন কারচুপি চললেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা কৃষক। উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার কৃষক এই চক্রের হাতে জিম্মি।

জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ধান ক্রয়ের ৮০-৯০ জন আড়তদার এবং কয়েকশ' ফরিয়া রয়েছে। এরা মৌসুমভিত্তিক ধান, ডাল, বাদাম, মরিচসহ অন্যান্য ভুষামাল কিনে থাকেন। আড়তদার মালিক সমিতির অধীনে এদের রয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র। বিভিন্ন ফসল মৌসুমে এই চক্র নিজেদের ইচ্ছামতো উৎপাদিত কৃষি পণ্যের মূল্য ও পরিমাণ নির্ধারণ করে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক আবুল হোসেন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধান ৯০০ টাকা থাকলেও গলাচিপায় ধানের বাজারের আড়তদাররা ৪৮ কেজিতে এক মণ নির্ধারণ করে তা ৯০০ টাকায় কিনছেন। এতে কৃষকরা মণ প্রতি ধানে ১৫০ টাকা করে ঠকছেন। এতে আপত্তি জানালে ফড়িয়া এবং আড়তদাররা  কৃষকের কাছ থেকে ধান না কেনার হুমকী দিচ্ছেন।

গোলখালী ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামের কৃষক নাসির হাওলদার জানান, গলাচিপা বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে দেখি ৪০ কেজির স্থলে ৪৮ কেজিতে মণ হিসাব করা হচ্ছে। এ সময় তিনি এর প্রতিবাদ জানালে আড়তদাররা তার ধান কিনতে অস্বীকৃতি জানান, পরে অন্য আড়তে গিয়েও একই নিয়মের কথা জানতে পারেন। পরে ধান ফিরিয়ে নিতে পরিবহণ খরচের কথা চিন্তা করে ওই নিয়মেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি ।

অপর কৃষক হাসান মীর জানান, ৪০ কেজির জায়গায় আড়তদার আট কেজি ধান বেশি নিচ্ছে। কিন্তু আড়তদার ফড়িয়ারা একজোট হয়ে এই অনিয়ম করায় তারা এ অন্যায় মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

গলাচিপা আড়ৎদার সমিতির সভাপতি তাপস দত্ত ৪৮ কেজিতে মন হিসাব করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা ঠিকই ৪৮ কেজিতে মন হিসাব করি। এজন্য অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে ধানের মূল্যও বেশি। এতে কৃষকদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিষ কুমার বলেন, ৪০ কেজির পরিবর্তে কেউ যদি কৃষকের কাছ থেকে ওজনে ৪৮ কেজি নেয় সেটা অন্যায়। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin