বুধবার,১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

থিয়েটার কর্মীর চোখে জীবন ও মঞ্চ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ০৯ অক্টোবার, ২০১৯ ২১ ৪৪
  • 307 বার পঠিত

আবীর মোদক-

আমরা আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে যা কিছু করি, তার প্রতিফলন হল মঞ্চ। থিয়েটার বা মঞ্চ নাটক হচ্ছে এমন একটা মাধ্যম যা, অভিনয়ের ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এক কথায় বলা যায় প্রাথমিক ধাপ। আবেগ-অনুভুতির খেলা চলে সেখানে। তাই সরাসরি ভাবে দর্শক সেখানে পায় বাস্তব অভিজ্ঞতা। দুঃখ-কষ্ট, হাসি-কান্না চলে দর্শকের সাথে মঞ্চ অভিনয়কারীদের। অভিনয়কারী দুঃখ পেলে দর্শকও দুঃখ পায়। আবার তাদের সুখে দর্শকও সুখ পায়।

নাটকের শ্রেণীবিভাগ কোনো বিশেষ বিষয়কে ভিত্তি করে করা হয়নি। নানারকম বিষয়বস্তু অনুসারে নাটককে নানাভাবে শ্রেণীবিভাগ করা হয়েছে।

যেমনঃ- ক) ভাব সংবেদনা রীতি অনুসারে, খ) বিষয়বস্তুর উৎসরীতি অনুসারে, গ) বিষয়বস্তুর প্রকৃতি অনুসারে, ঘ) উপাদানযোজনা বৈশিষ্ট্য অনুসারে, ঙ) আয়তন বা অঙ্কসংখ্যা অনুসারে, চ) গঠন রীতি অনুসারে, ছ) রচনারীতি অনুসারে, জ) উপস্থাপনা রীতি অনুসারে, ঝ) উদ্দেশ্য অনুসারে

আবার, এগুলোর মধ্যেও প্রত্যেকটির শাখা-প্রশাখা আছে।

যাই হোক, আমরা প্রতিদিনকার জীবনে যা করে থাকি। তাই ফুটে উঠে নাটকে। তেমনি একটি ঘটনা হচ্ছে, নাট্যকার বিমল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত- “একটি অবাস্তব গল্প”। এটি একটি এক অঙ্কের নাটক। বাংলা ভাষায় এক অঙ্ক হল ছোটমাপের নাটক। ছোট বলেই এই শিল্প-সামগ্রী খণ্ড নয়, বলতে গেলে স্বতন্ত্র মর্যাদা দেওয়া হয়েছে শিল্পরূপের দিক দিয়ে। স্বল্প চরিত্র, একটি ঘটনার শুরু, চমক, উত্থান-পতন এবং ঘটনার শেষ ইত্যাদি এই সবকিছু নিয়ে হল একাঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।

একটা মিল কারখানাকে কেন্দ্র করে একজন শ্রমিকের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে। মিল বন্ধ ঘোষণা করায় কারখানার চাকরীরত শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে যায় ক-মণ্ডল নামক এক শ্রমিকও। সংসারের টানাপড়েনে হিমশিম হয়ে যায় সে। আর এদিকে তাঁর স্ত্রী-সন্তানরা না খেতে পেরে দুর্বল হয়ে পড়ে। যার ফলশ্রুতিতে, তাঁর স্ত্রী চাঁপা রানী মারা যায়। কিন্তু ক-মণ্ডল তাঁর স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে মারার অভিযোগে অর্থাৎ স্ত্রী হত্যার দায়ে ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো হয়।কিন্তু ঝুলানোর পরেও অলৌকিকভাবে বেচেঁ যায় সে। দুবার ফাঁসির নির্দেশ না থাকায় আইনগত নানা জটিলতা দেখা দেয় এবং এই জটিলতা নিয়েই পরবর্তী ঘটনা সমূহ পরিবেশিত হয় এই নাটকে। সমাজব্যবস্থায় পুঁজিপতিদের হাতে ক-মণ্ডল এর পরিবার অসহায় হয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছিল।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এর থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ ২০১৮ সালে তাদের ৪র্থ বার্ষিক নাট্যোৎসবে নির্দেশক- “নাঈম মোঃ সাদী খান” এর একক প্রচেষ্টায় ‘একটি অবাস্তব গল্প’ নাটকটি প্রদর্শিত হয়। হাস্য-রসাত্মক কমেডি ও ট্র্যাজেডি নির্ভর এই নাটকে উক্ত বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের ১২ জন শিক্ষার্থী এই নাটকে অভিনয় করে।

বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে শাকিল, মিম, আবীর, হিমেল, নাঈম, রাত্রি, শুভ, শাওন, অপূর্ব, ধ্রুব, আন্নি, এমি। আবহ সংগীতে ছিলেন সাদী, আলোক প্রক্ষেপণে ছিলেন অন্তর এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় তন্ময় ছিলেন। বিপুল সংখ্যক দর্শক উপভোগ করেছে এই নাটকটি।

একজন শ্রমিকের করুন বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলা হয়েছিল এই নাটকে। কারখানাগুলো যখন বিভিন্ন কারণে বন্ধ করে দেয়া। তখন ঐ চিন্তা করা হয় না যে, কারখানার শ্রমিকগুলোর কি হবে, কি করবে তাঁরা, তাদের সংসার কিভাবে চলবে, পরবর্তীতে তাদের আয়ের উৎস কি হবে।

ধন্যবাদ দিতে হয়, নাটক রচয়িতা বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়কে এমন কাহিনী রচনা করার জন্য এবং আরেকটি ধন্যবাদ দিতে হয় নির্দেশককে। নাট্যোৎসব এর মত একটি অনুষ্ঠানে এই নাটককে দর্শকের সামনে তুলে ধরার জন্য।

লেখক: নাট্য শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আন্দোলন৭১/হুমায়ুন/এস

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Rokonuddin
Theme Developed BY Rokonuddin