বুধবার,১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

দুঃসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা রানা এখন...

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বার, ২০১৯ ০১ ৩৫
  • 246 বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট-

আমরা যখন ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করি তখন ফেসবুক ছিলনা। দৈনিক পত্রিকায় "বাংলাদেশ ছাত্রলীগের" সাংগঠনিক কর্মকান্ডের খবরাখবর জানতে পারতাম ডাকসাইটে ছাত্রনেতাদের নাম সেরকমই একজন 'মোতাহার হোসেন রানা' মিরেরশরাই থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। 

১৯৯০ দশকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রথম কাতারের নেতা ছিলেন তিনি। আমার নিজেরও স্পষ্ট মনে আছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার জ্বালাময়ী ভাষনের স্মৃতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক সভায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী, আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনি ৫ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার বক্তব্য শুনে নেত্রী এতো খুশী হয়েছিলেন তার নাম ঠিকানা মঞ্চে সবার সামনে ডায়রীতে টুকে নিয়েছিলেন। 

ছবির এই উদভ্রান্ত, ভগ্ন শরীরের, দারিদ্র্যর ছাপযুক্ত এই মানুষটিই সেই মাঠ কাপানো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা "রানা"৷  গতকাল ১৬ নভেম্বর ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও সম্মেলন। দল সরকারের এলাকার এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান,পয়সাওয়ালা নব্যনেতা, হাইব্রিড নেতা, পাতি নেতাদের সরগরম উপস্থিতিতে সম্মেলন ছিল উৎসবমুখর। 

তারই ভীড়ে একাকী দর্শকের চেয়ারে পাবলিক হয়ে বসেছিলেন একসময়ের তুখোড় নেতা রানা ভাই। সভামঞ্চে তার হাতে গড়া কর্মী, সহযোদ্ধাদের অনেকেই থাকলেও কেউ তার খবর নেয়নি, কেউ বলে নাই আপনি স্টেজে আসুন। কারণ তার টাকা পয়সা নাই, পদ পদবী নাই, হয়তোবা তার মানসিক শারীরিক সমস্যা আাছে বা থাকতে পারে। 

কিন্ত দলের সুদিনে অতীতের এরকম একজন ত্যাগী নেতার পাশে কি আমরা দাড়াতে পারি না? আমি শত ভাগ বিশ্বাস করি তাকে ঐ এলাকার এমপি, জননেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন নামে চিনেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সেক্রেটারি, চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা তাকে না চেনার কোনো কারন থাকতে পারেনা।

টাকা পয়সা প্রতিপত্তি না থাকলে দাম নাই অতীত সংগ্রাম আর ত্যাগের। গতকাল রানার এই ছবি দেখে এটাই বিশ্বাস জন্মালো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে গতকালের মোতাহার হোসেন রানার ছবি দেখে আমরা আফসোস করেছি, এর চেয়ে বেশী কিছু করার আমাদের সামর্থ বা সুযোগ নাই।

কিন্ত তার এলাকার অনেক প্রভাবশালী নেতা আছেন যারা তাকে চিনেন, তারা তাকে অন্তত সামাজিক সম্মান, সুচিকিৎসা আর দু'বেলা খাওয়া আর নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারেন। একজন রাজনৈতিক কর্মীর শেষ জীবনের এরকম করুন পরিনতি আমাদের কারোরই কাম্য নয়।


লেখা-  চট্টগ্রাম মহানগর, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Rokonuddin
Theme Developed BY Rokonuddin