বৃহস্পতিবার,২২ অক্টোবর, ২০২০ অপরাহ্ন

ধর্ষক সমাজের আগাছা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবার, ২০২০ ১৬ ০১

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ধর্ষণ। ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল সারা দেশ। বঙ্গমূলকে দিন দিন যে হারে ধর্ষণের মতো ন্যাক্কার জনক ঘটনা যে হারে বেড়ে চলেছে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পরবে। এখনই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ধর্ষণ রুখে দেয়ার।

ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে অনেক নারীকেই। এটা নতুন কোন বিষয় না হলেও সম্প্রতি বাংলাদেশে ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। তাও আবার লাগামছাড়া!মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। আকাশে বাতাসে রঙিন ঘুড়ির বদলে উড়ছে অনিরাপত্তা আর বিপদসংকেত

যদি কেউ বলে নারী নিপীড়ন শুধু ছাত্র সংঠনের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাহলে বলবো নীতিবাচিক মনভাব নিয়ে বলা । শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউ কি বাদ আছে এই ধর্ষণ নামক বিভীষিকা থেকে? কোথাও যেন কেউ নিরাপদ না। বাবার কাছে মেয়ে, চাচার কাছে ভাতিজি, শিক্ষকরের কাছে ছাত্রী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা মানিকের ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে তা উদযাপন করার কাহিনী নিশ্চয় সবার মনে আছে। সিলেটের খাদিজা বেঁচে থাকলেও তার উপর যে নির্যাতন হয়েছিল সেটা কি ভুলা যায়?  

বরিশালের বানরী পাড়ায় মা ও মেয়েকে ধর্ষণ করে ন্যাড়া করে প্রকাশ্যে রাজপথে প্রভাবশালী তুফান যে কান্ডটি ঘটিয়েছিল সেটার উত্তর কি? কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের  মত সংরক্ষিত এলাকায় তনু নামের মেয়েটিকে ধর্ষণ করে রাস্তার পাশে ফেলে গেল কারা?  নোয়াখালীতে মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ করে রুহুল আমিন নামক বীরপুরুষের সেই কান্ডটি আমারা ভুলে গেছি? ফেনির সোনাগাজি ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতকে তার মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল সিরাজের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেয়াতে কিভাবে পুড়িয়ে মারা হলো তার কথা কি আমারা ভুলতে পারি?  বরগুনার আলোড়িত রিফাত হত্যার পরিস্থিতি কি তা তো চোখের সামনেই দেখলাম।

সিলেটের এমসি কলেজ হোস্টেলে ধরে নিয়ে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গনধর্ষণের বিচারের অগ্রগতিই বা কতটুকু? আর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা বর্তমান সময়ের তাজা খবর।

আজকে নারী সমাজের কোথায় স্থান? শিশু ধর্ষণ, বৃদ্ধা মহিলা ধর্ষণ এসব হতভম্ব বিষয়গুলো বাংলাদেশের ইস্যুতে চরম আকার ধারণ করেছে।  অর্থাৎ নারী ভোগের বস্তু। এর বাইরে যাওয়ার মানসিকতায় আমরা নেই। কখনও প্রেম করে ভালবাসায় সিক্ত করে, কখনওবা চাকুরী যাওয়ার ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভনের টোপ দিয়ে আর সর্বশেষ চাহিদার পশুত্ব আচরনের প্রকাশ আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে হরদম ঘটে চলেছে। কোনটা নীরবে কোনটা প্রকাশ্যে। তবে নিরাশার কথা একটাই তা হলো এই অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি এখনও জাতি অবলোকন করেনি।

নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা নিয়ে কেউ কথা বলতে গেলেই তাকে নিয়েও কটুবাক্য করা হয় অহরহ।আচ্ছা নারী বাদেও শিশু ও পুরুষ কেন ধর্ষিত হচ্ছে। মাদ্রাসার হুজুর তো ছাত্রকে দিয়ে নিজের হীন চরিত্রের প্রকাশ ঘটাচ্ছে। শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে। আসলেই ধর্ষণের জন্য আমরাও কম দায়ী নই। আমরা ভদ্রলোকেরা এক একজন এমনই ঈশ্বর হয়ে গেছি যে, সমাজের ভালোমন্দ দেখতেই পাইনা। আশেপাশের পরিবেশ কতখানি বিষাক্ত তা ঠাওর-ই করতে পারছিনা।

বাংলাদেশে এখন প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে চারটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে৷ অথচ ধর্ষণের শতকরা মাত্র তিন ভাগ মামলার অপরাধীরা শাস্তি পায়৷ আসকের হিসেব মতে, চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৪৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে ৫৯টি৷ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪১ জন নারীকে৷ ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন৷ আর ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ১৯২ জন৷ ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৭৩২ জন৷ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে ৷ ২০১৯ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৪১৩ জন৷ হত্যা করা হয়েছে ৭৬ জনকে৷

পরিশেষে বলা যায়, বাবা, চাচা, ভাই, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ বা যে কোন উচ্চ পদধরীই ব্যাক্তিই হোক না কেনো সে ধর্ষক। ধর্ষকের মূল পরিচয় সে ধর্ষক।  ধর্ষণ নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে  চলছে তুমুল ঝড়। আশা করছি রাষ্ট্র প্রধানরা  সঠিক সিদ্ধাতের মাধ্যমে  সমাজ থেকে ধর্ষণ নামক আগাছা ছাটাই করবে। জাতি হবে কলঙ্ক মুক্ত আর এভাবেই বঙ্গবন্ধুর  স্বপ্নের  সোনার বাংলা বাস্তবায়ন  হবে।

লেখক:

মোঃ সোহেল আহমেদ তাজ,  

প্রকাশক  ও সম্পাদক, আন্দোলন৭১ নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin