শনিবার,২৪ অক্টোবর, ২০২০ অপরাহ্ন

বন্যা: সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কয়েকটি শপ বন্ধ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বার, ২০২০ ২২ ০০

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি-

উত্তরাঞ্চলের স্মরণকালের রেকর্ড অতিবৃষ্টির ফলে দেশের সর্ববৃহৎ নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাও জলমগ্ন হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় কারখানায় কয়েকটি শপে সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে দুই দিন থেকে। 

পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এখনও মেঝেতে পানি বিদ্যমান। কিছু শপের পানি কর্মচারীরা নিজেরাই সেচে কোন রকমে কাজ শুরু করলেও লোকো মেশিন শপের অবস্থা করুন।

গত কয়েকদিন যাবত নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার রাতে এর পরিমান এতটাই প্রবল ছিল যে তা বিগত শত বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের ক্ষেত্রে রেকর্ড হয়েছে। ফলে প্রায় প্রতিটি শহর হাটু থেকে কোমড় পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। পানিবন্দি হয় প্রায় ১০ লাখ মানুষ। সৈয়দপুর শহরেরও অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে পানিবন্দি অবস্থার সৃষ্টি হয়। 

এথেকে রেহাই পায়নি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাও। অতি বৃষ্টিতে কারখানার ২৫টি শপের প্রায় প্রতিটিতেই চাল দিয়ে পানি পড়ে এবং বাহিরের অংশে অধিক মাত্রায় পানি জমে উপচে শপগুলোতে ঢুকে পড়ে। এতে কারখানার শপগুলোও পানিতে তলিয়ে যায়। মেশিনপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জমাদি ভিজে একাকার হয়ে পড়ে। 

গত রবিবার সারাদিনে কিছু পানি সরে যাওয়ায় কয়েকটি শপে কাজ করা গেলেও লোকে মেশিন শপের পানি সরানো সম্ভব হয়নি। একারণে এই শপে রবিবার ও সোমবার কোন কাজ করা যায়নি। তাছাড়া মেশিনগুলোতে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছে কর্মচারীরা।

এ ব্যাপারে লোকো মেশিন শপের ইনচার্জ মোঃ মোশারফ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পরশুদিনের বৃষ্টির কারণে গতকাল রবিবার কাজ করা যায়নি। তবে সোমবার পানি অনেকটাই সরে গেছে এবং আমরা যথারীতি কাজ করেছি।

কারখানার শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, রেলওয়ের উন্নয়নের সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সে বরাদ্দের অর্থ ব্যায় করে যে কাজ করা হচ্ছে তা মানসম্পন্ন না হওয়ায় সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যায়ে কারখানার শেড বা উপরের চাল সংস্কার করা হলেও এখনও অধিকাংশ শপে একটু বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। 

তাছাড়া ঝড়ো বৃষ্টি হলে পানি ছিটকে ঢুকে পড়ে শপগুলোতে। অতিরিক্ত পানি ঢুকে পড়লে তা নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেই। লোকবল সংকট থাকায় যেমন কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে তেমনি পানি নিষ্কাশনের জন্য লোকের অভাব থাকায় যথাসময়ে পানি সেচ দিয়ে সরানো যায়না।

তারা জানান, লোকবল সংকট দূর করার ক্ষেত্রে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু তা না করে কারখানার ভিতরে রাস্তা নির্মাণে ব্যস্ত। যাকোন কাজে আসছেনা। তারা সংস্কার কাজ যথাযথভাবে করার দাবি জানান।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) মোঃ জয়দুল ইসলাম জানান, চলমান বৃষ্টির ফলে লোকে মেশিন শপে পানি জমলেও তা দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

আন্দোলন৭১/শাহজাহান/জিকে

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin