শনিবার,২৪ অক্টোবর, ২০২০ অপরাহ্ন

বাউফল উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারী রাজস্ব আদায়ের অর্ধকোটি টাকা লোপাট

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বার, ২০২০ ১৬ ৫০

গোফরান পলাশ-

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক নাজির মো: রফিকুল ইসলাম’র বিরুদ্ধে সরকারী রাজস্ব আদায়ের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত তিনি ডিসিআর মাধ্যমে আদায়কৃত রেকর্ড সংশোধন ফি, বন্দোবস্ত কেসের সেলামী, চান্দিনা ভিটির একসনা আদায় সহ সরকারের বিবিধ আদায়কৃত ৪৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা প্রদান না করে আত্মসাত করেন।

এছাড়া ভূমি অফিসের বগা তহশিলদারের এক মাসের বেতন ও ঈদ-উল-ফিতর’র উৎসব ভাতাসহ ৪২ হাজার ৮১০ টাকা তিনি সরকারী কোষাগার থেকে বে-আইনী ভাবে উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। 

এসকল অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান থাকার পরও তিনি অদ্যবধি আত্মসাৎকৃত টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দেয়ার পরও রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। -তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাউফল ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক নাজির ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো: রফিকুল ইসলাম (বর্তমানে রাঙ্গাবালী ইউএনও কার্যালয়ে সমপদে কর্মরত ) ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত তিনি ডিসিআর মাধ্যমে আদায়কৃত রেকর্ড সংশোধন ফি, বন্দোবস্ত কেসের সেলামী, চান্দিনা ভিটির একসনা আদায়সহ সরকারের বিবিধ আদায়কৃত ৪৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা প্রদান না করে ভুয়া চালানের মাধ্যমে বিবিধ আদায়ের ক্যাশ বইতে পোষ্ট করে এসি ল্যান্ডকে প্রদর্শন করেন। 

এতে এসি ল্যান্ড ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নাজির রফিক উক্ত টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাত করেছেন। বিষয়টি তিনি (এসিল্যান্ড) উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব), ভূমি মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা’র  ২৪মার্চ ২০২০ স্মারক নম্বর ৩৩০৫.৭৮০০.৭৯২.০১.১৮৮.১১.১০০ বিষয়টি তদন্তের জন্য বলা হয়। 

যার প্রেক্ষিতে হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব), পটুয়াখালী, মোস্তাফিজুর রহমান তদন্ত করে ২২জুন ২০২০ জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। 

এতে বলা হয় ২০১৫-১৬ অর্থ বছর হতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত ৫৯টি ভুয়া চালান প্রদর্শন করে ৪৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪ টাকা আত্মসাত করেছেন নাজির। তন্মধ্যে নাজির রফিক’র ব্যক্তিগত ডায়রী প্রদর্শনে দেখা যায় বগা তহশিলদার ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা তার কাছ থেকে নিয়ে বগা তহশিল অফিস মেরামত করেছেন। কিন্তু সরকারের বিবিধ খাতে আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান ব্যাতিরেকে অন্য কোন খাতে খরচ করার সুযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে বগা তহশিলদার আ: জব্বার আকন বলেন, ’হিসাব তত্ত্বাবধায়ক’র দাখিলীয় ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা সংক্রান্ত নিরীক্ষা আপত্তি প্রতিবেদনটি সম্পূর্ন মনগড়া। ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলে বগা অফিস মেরামত সংক্রান্ত যে তথ্য তিনি প্রতিবেদনে উপস্থাপন করেছেন তা সঠিক নয়। কেননা আমি নাজির রফিকের কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। বগা অফিস মেরামত করা হয়েছে সরকারি দরপত্র আহবান করে।

হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি জেনেও ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা সংক্রান্ত একটি নিরীক্ষা আপত্তি তথ্য তার তদন্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপন করেছেন নাজির রফিক’র যোগসাজশে। যাতে নাজির রফিক’র ৪৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গ্রহনে কালক্ষেপন হয়।’

বগা তহশিলদার আ: জব্বার আকন আরও বলেন, ’আমার এক মাসের বেতন ও ঈদ-উল-ফিতর’র উৎসব ভাতাসহ ৪২ হাজার ৮১০ টাকা নাজির রফিক বে-আইনী ভাবে উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার উক্ত বেতন ও উৎসব ভাতা পেতে ১৪ জুলাই ২০২০ লিখিত আবেদন করেছি।’

এ বিষয়ে বাউফল ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক নাজির ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো: রফিকুল ইসলাম’র সাথে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে একাধিকবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেও সম্ভব না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুর রহমান বালী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ’সাবেক নাজির রফিকুল ইসলাম সরকারী রাজস্ব আদায়ের আত্মসাতকৃত ৪৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪ টাকা অদ্যবধি সরকারি কোষাগারে জমা করেনি।

এনিয়ে তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালীকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অনুরোধ পত্র প্রেরন করা হয়েছে।

আন্দোলন৭১/জিকে

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin