রবিবার,৫ এপ্রিল, ২০২০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞাপনের ভ্রান্তি!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০ ০৬ ৪৩

শিলা আক্তার মৌ-

একটি সময় এ বিজ্ঞাপন আর আগের মত আবেদন সৃষ্টি করে না। তবুও এ বিজ্ঞাপনগুলো ঝুলানো থাকে দেয়ালে ও রাজপথে। সুন্দর এ শহরটি দিনদিন বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড আর পোস্টার এ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।

সুস্থ সুন্দর ও মননশীল জাতি গঠনে একটি মানসম্মত বিজ্ঞাপনের ভূমিকা অপরিসীম তাতে অবশ্য কোনো দ্বিমত নেই। কিছু বিজ্ঞাপন মনে নাড়া দেয়। আবার কিছু সমাজের পরিবর্তনের ভূমিকা রাখে কিছু বিজ্ঞাপন হয়ে উঠে কালজয়ী। বিজ্ঞাপনের এ ধারনাটা খুব চমৎকার একটা মাধ্যম সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছাকাছি পৌছানোর জন্য। বিজ্ঞাপনকে মার্কেটিং ও বলা যায়। এ মাধ্যমটাকে ভেজাল, সস্তা আর অবিশ্বাস করে ফেলছে কিছু অসাধু মানুষ।

বিজ্ঞাপন বলতে আমরা কি বুঝি? শুধু টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন নাহ আমি মোটেও সে বিজ্ঞাপনের কথা বলছি না। আমি বলছি সামগ্রিক বিজ্ঞাপনের কথা যেগুলো আমরা আমাদের নিত্যনৈমতিক জীবনে দেখি বিলবোর্ড ব্যানার ইত্যাদি। 

ডানে তাকাচ্ছেন বিজ্ঞাপন বামে তাকাচ্ছেন বিজ্ঞাপন। আজকাল বিজ্ঞাপনের বাজারে কবিরাজের পানি পড়া ও তান্ত্রীক এর তাবিজ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সন্ধান পায় মানুষ। তারপর শুরু হয় প্রতারনার পালা। কিন্তু সব বিজ্ঞাপনই কি সত্য? নাকি সাজানো? বানোয়াট তা কি আমরা আদৌ জানি?

আচ্ছা, ধরুন বাস দিয়ে যাচ্ছেন হঠাৎ বাসের জানালার কাচে চোখে পড়লো বিজ্ঞাপন এর স্টিকার তাতে লেখা "খুব সহজে ও কম খরচে বিএ ও এমএ পাশ করা যায়" যোগাযোগ ডট ডট। আবার আপনার কি মাথায় টাক আজই ব্যাহার করুন অমুক তমুক তেল। কি চমকপ্রদ আর লোভনীয় বিজ্ঞাপন তাই না? ফাঁদে পা না দিয়ে উপায় আছে? আচ্ছা এবার আসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুক এ টাইম লাইন স্ক্রল করার সময় চোখে পড়বে আপনার রং কি কালচে? ফর্সা হতে চান ব্যবহার করুন তমুক ক্রীম। তারপর রয়েছে ওজন কমানোর বিজ্ঞাপন এমনি করেই। অহরহ বিজ্ঞাপনে ঘেরা চারপাশ। এখন তো খুব ডিজিটাল মার্কেট ও তৈরি হয়েছে লাইভ এ এসে প্রায় সকল পন্যই বিক্রয়ের দৃশ্য দেখা যায়।

'প্রচারেই প্রসার'- এ কথাটি এখন আমরা সবাই মোটামুটি আয়ওে নিয়ে নিয়েছি বিশেষ করে কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ। কেননা, নিত্যনতুন প্রচারনার মাধ্যম বা পস্থা দেখলে আপনার আমার অবাক হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অহরহ বিজ্ঞাপন আর ডজন ডজন পোস্টার বিলবোর্ডে ঢাকা শহর। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিলবোর্ড আর ব্যানারে এ শহরটাকে করে তোলে আরও নোংরা। 

পর্যটক কেন্দ্রগুলো ও নামি-দামি শপিং মলগুলোও বাদ যায় না। বিভিন্ন কোম্পানীর বিজ্ঞাপনে ঠাসা এতে এক শ্রেনী যদিও লাভবান হচ্ছে। কিন্তু অপরপাশে সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করছে। কোন এক প্রতিবেদনে পড়েছিলাম মানুষ গড়ে ৬/৮ ঘন্টা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে থাকে। এতে হয় কি সে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।

কাগজ, স্টিকার, বিলবোর্ড এর বিজ্ঞাপন ও প্রচারনা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টেলিভিশন। সকল ক্ষেত্রেই বড় একটি অংশ বিরাজ করছে বিজ্ঞাপন। এতে কি বিজ্ঞাপন কতটুকু নিরাপদ বা যৌক্তিক?

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, প্রচার মাধ্যমে কিছু কিছু বিষয় আমাদের প্রভাবিত করছে। টেলিভিশন খুললেই বিভিন্ন পন্য খাবার ও কসমেটিকস এর বিজ্ঞাপন। সবচেয়ে সমালোচিত বিজ্ঞাপন হল ফেয়ার এন্ড লাভলি। ফেয়ার এন্ড লাভলি ব্যবহার করে ক জন উজ্জ্বল হয়েছে? সে প্রশ্ন সকলের মনে। 

আবার আরেকদিক থেকে লক্ষ করলে দেখা যায় তারা আমাদের মনে কোথাও না কোথাও বর্ণ বৈষম্য সৃষ্টি করছে। শিশুদের মনে সেই ছোট বয়স থেকেই বডি শেমিং এর বিষ বাষ্প মনের মধ্যে ডুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। কমপ্লান বা হরলিকর্স ও বনভিটা। মানের পন্য দ্রব্যের মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপনের প্রচারের ব্যাপকতা থেকে শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না কমপ্লান খেলে দুইগুন লম্বা হওয়া যায়। ছোট বয়স থেকেই বডি শেমিং এর বিষ বাস্প শিশুমনের মধ্যে ডুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। কমপ্লান বা হরলিকর্স ও বনভিটা নামের পন্য দ্রব্যের মাধ্যমে।

এতে প্রতারিত বা ঠকে যাওয়ার মাত্রা বাড়ছে। পন্যে ভেজাল আর বিজ্ঞাপনের প্রতারনা একই সূত্রে গাঁথা। কিছু অসাধু মানুষ লাভের আশায় মানুষকে বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত করে। এমন বিজ্ঞাপনের অসংখ্য উদাহরন দাঁড় করানো যায়।

তারপর বছর ঘুরে আবার আসে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ব্যবহার করা হয় অসংখ্য ছবি বিলবোর্ড। তারপর পুরো শহরটাকেই ঢেকে দেয়া হয় প্রচারনায়!! 

চারিদিকে বিজ্ঞাপনের এত এত চাকচিক্যতা। তখন এই প্রবাদ টি না বললেই নয়! "চকচক করিলেই সোনা হয় না"। 

আমাদের দেশে ২০১৩ সালে গঠিত আইনি নীতিমালা আছে। প্রচার ও বিজ্ঞাপনের উপর। আদৌ কি সে নীতিমালা অনুসরন করে বিজ্ঞাপন নির্মান বা প্রচার করা হয়? সে বিষয় সাধারন জনগন অবগত নয়। জানা নেই এবং বিজ্ঞাপনের ভুল তথ্য বা বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করলে প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় ও শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয় কি না সেটাতেও আমরা অবগত নই। আমরা যে প্রতিনিয়ত বিজ্ঞাপনের বিভ্রাটের কারনে অসাধু মানুষের কারনে ঠকছি এতে আমাদের কি করনীয় জানা নেই।

আমাদের সমাজে 'আজ আমি ঠকেছি অন্য কেউ যেন না ঠকেন' এমন সচেতনতা অভাব বৈকি।

আমাদের দেশে মূলত সেলিব্রিটিদের দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয় এতে দেখা যায় তারা টাকার বিনিময়ে পন্যের গুনগত মান না জেনেই বিজ্ঞাপনের মধ্যে পন্যের গুনগান গায়। এতে দর্শক আকৃষ্ট হয় এবং বিজ্ঞাপনদাতারও ফায়দা হয়।

ঢাকা যাদুর শহর। কিন্তু এই বিলবোর্ড আর স্টিকার লাগাতে বাদ নেই বিভিন্ন কোচিং সেন্টারও। সেদিন চোখে পড়লো একদল মানুষ কোম্পানির প্রচারের জন্য চিরকুট বিলি করছে আরেকদল মানুষ সেগুলো রাস্তাতেই ফেলে দিচ্ছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। তারপর আমরাই আমাদের শহর নোংরা করে আক্ষায়িত করি কি অদ্ভুত না! যে শহরে একটু একটু করে বড় হয়েছি যে শহরের অলিতে গলিতে জমা আছে শৈশব কৈশোরে অসংখ্য অগনিত স্মৃতি সে শহরটাকে ঢেকে দিচ্ছি নির্জীব ও মৃতের ছায়ায়।

লেখক-শিক্ষার্থী; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin