বৃহস্পতিবার,২২ অক্টোবর, ২০২০ অপরাহ্ন

মাটি ছাড়াই হয় সবজি চাষ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবার, ২০২০ ১৪ ৩৭

গাজী কাইয়ুম-

প্রতিনিয়তই বাড়ছে রাজধানী মুখি মানুষের ঢল। ক্রমেই কমছে সমতল ভূমি। কমছে সবুজায়ন আর দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এই শহরে মানুষের মাথা গোজার ঠাই পাওয়া যেখানে দুষ্কর সেখানে সবজি চাষতো কল্পনাতীত।  আর সেই কল্পনাতীত বিষয়কে বাস্তবায়ন করতে মাটি ছাড়াই সবজি চাষের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে গ্রিন সেভার্স নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এবং তারা এ পদ্ধতির নাম দিয়েছে হাইড্রোপনিকস পদ্ধতি। যেখানে মাটি ছাড়া পানিতে নিউট্রেশন যোগ করেই হবে সবজি জাতীয় ফলস উৎপাদন। আর খচরও তেমন বেশি নয়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছে, এ পদ্ধতিতে চাইলে রাজধানীবাসী খুবকম খরচে তাদের সাধ্যের মধ্যে বাড়ির ছাদে বেলকোনিতে এমনি কী শোবার ঘরের মধ্যেও চাষ করতে পারবে লিফি জাতীয় সবজি।  

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে তাদের কার্যালয়ের ছাঁদে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি ছাঁদ আর তার এককোণে নেটের বেড়া দিয়ে তারা করছে হাইড্রোপনিকস পদ্ধতিতে চাষাবাদ। সেখানে তারা মাত্র চার দিনের মাথায় ফলিয়েছে বরবটি ও শসা।  তাদের দাবি, চাইলে যে কেউ সেখান থেকে তাদের হাইড্রোপনিকস পদ্ধতির মডেলগুলো সংগ্রহ করে ক্যাপসিকাম, বরবটি, শসা, লেটুস, পুদিনা, টামটোসহ শীতকালীন নানা সবাজি উৎপাদন করতে পারবে। এই পদ্ধতিতে মাটিছাড়া স্বল্প আয়তনের জায়গায় (২ স্কয়ায় ফিট) সবজি আবাদ করে পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। প্রতিনিয়ত জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিন সেভার্সের ছাঁদ বাগান পদ্ধতি। করোনাকালে গত তিন মাসে অন্তত ১০০০ (এক হাজার) জনকে হাইড্রোপনিকস পদ্ধতিতে বাগান করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সবুজের সঙ্গে নগরবাসীর সংযোগ ঘটাতেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এনএফটি মডেলের আওতায় মাত্র দুই স্কয়ার ফিট জায়গায় ৬ থেকে ১২টি গাছ লাগানো যায়। পানিপ্রবাহ চলমান এবং স্বচ্ছ থাকায় এডিস মশা, কেঁচো ও শামুক বংশবিস্তার করতে পারে না। গাছের শক্তির জন্য শুধু পানিতে বছরে দুই থেকে তিনবার পুষ্টি (নিউট্রিয়েন্ট) যোগ করতে হবে।

গ্রিন সেভার্সের প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি আন্দোলন ৭১ নিউজকে বলেন, ‘জায়গার অভাব ও বাগান পরিচর্যার সুযোগ যারা পান না, তাদের জন্য হাইড্রোপনিকস পদ্ধতি বেশি কার্যকর। মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকায় এই বাগান করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে মূলত পল্লবিত সবজি (লিফি ভেজিটেবল) টমেটো, ব্রোকলি, ক্যাবেজ, লেটুস, শিম, বরবটির চাষ ভালো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাটি থেকে মূলত ফসল ও গাছপালায় রোগ ছড়ায়। এই পদ্ধতিতে মাটি না থাকায় রোগ-বালাইয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। সার কিংবা কীটনাশকও ছিটাতে হয় না। ফলে অনায়াসে বিষমুক্ত সবজি পাওয়া যায়।’

এই পদ্ধতিতে গাছের পরিচর্যা নিয়ে কথা বলতে এই প্রতিষ্ঠানের হাইড্রোপনিক সিস্টেম অপারেটর আনোয়ার হোসেন  আন্দোলন ৭১ নিউজকে বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে গাছের তেমন কোনো রোগ-বালাই হয় না, কারণ এখানে মাটির  কোনো সংস্পর্শ  নেই।  আর পরিচর্যা বলতে শুধু পানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে নিউট্রেশন যুক্ত করতে হয় যা সবাই পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের গ্রাহকদের নির্দিষ্ট পরিমাণে নিউট্রেশন যুক্ত করার সেবাটিও দিয়ে থাকি। আরেকটি বিষয় হলো, কেউ চাইলে একটি মডেলে বারবার ভিন্নরকমের চারা রোপণ করতে পারবে, অর্থ্যাৎ এক ফসল উঠে গেলে অন্য ফসলের চারা রোপণ করা যাবে। ’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin