রবিবার,৫ এপ্রিল, ২০২০ অপরাহ্ন

মানুষের মত দেখতে কিন্তু মানুষ না

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২০ ০৮ ০৯

গাজী কাইয়ুম-

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। আমরা সব সময় নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করি। পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকতে চাই ভালভাবে, চাই  একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বাস করতে। কিন্তু সেই মানুষ যদি মানুষের উপকারে বা বিপদে এগিয়ে না আসে তাহলে জীবনের সার্থকতা কোথায়?

বর্তমান সময় এমন সময়; আমরা মানুষের কষ্ট দেখলে হাসি, যদি দেখি কোথাও দুর্ঘটনা ঘটেছে আমরা উদ্ধার করা বাদ দিয়ে ছবি তুলে বা ভিডিও করে ফেসবুকে অনুশোচনা দেখাই। কিন্তু একবারও ভাবিনা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়ত মূমুর্ষ রোগীটা প্রানে বেঁচে যেত।

চকবাজারে যে সময় আগুন লাগে আগুনে পুড়ে মারা যায় অনেকে। আগুনের তাপ সহ্য না করতে পেরে পিপাশায় মানুষ পানি পানি বলে চিৎকার করছিল; কয়জন এগিয়ে আসছিল। বেশির ভাগ দেখছিলাম ছবি বা ভিডিও করার কাজে ব্যস্ত।

বনানীতেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। এটা তো গেল দুর্ঘটনা এবার আসা যাক একটু ভিন্ন বিষয়ে।

সবার তো মনে আছে বিশ্বজিতের কথা, যাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। যেসময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সে সময় তার আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসেনি তাদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে। 

উত্তর বাড্ডার রানু, যাকে ছেলে ধরা সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয় মনে আছে তার কথা? একটা মানুষ কিভাবে পারে আর একটা মানুষের পিটাতে পিটাতে জীবন নিয়ে নিতে। সে যদি অপরাধী হয় তাহলে আইন আছে তাকে পিটিয়ে না মেরে তো প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া যেত। প্রশাসন তার বিচার করত। তাহলে এখানে মানুষের মনস্তত্ব থাকল কোথায়।

বরগুনায় রিফাতের কথা আপনাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়, আপনারা সবাই দেখছেন কয়জন মানুষ মিলে একজন মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। অনেকে দূরে দাড়িয়ে ভিডিও করছে ছবি তুলছে কিন্তু কেও বাঁচাতে আসেনি। যারা দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভিডিও বা ছবি তুলছিল তারা গণমাধ্যমে প্রতিবাদ করছে জোরালো ভাবে কিন্তু তাতে লাভ কি হল? রিফাতকে কি বাঁচানো গেল? যদি তারা ঐ সময় এগিয়ে আসত তাহলে কিন্তু রিফাত প্রানে বেঁচে যেত। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে কুর্মিটোলা বাস টার্মিনালে পাশে ধর্ষণ করা হয়। জোরালো আন্দোলনের পর র‍্যাব আসামীকে আটক করে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ধর্ষণ প্রতিনিয়ত ঘটছে কিন্তু কয় জনবা তার বিচার পাচ্ছে, আমরা তাদের জন্য আন্দলোন করছি না বলে কি তাদের বিচার হচ্ছে না?

ছোট বেলায় একটা ভাব-সম্প্রাসারন পড়ে ছিলাম 'একের লাঠি দশের বোঝা' সেই সময় ভাবতাম একজন অন্যায় করলে বাকি নয় জন যদি রুখে দাড়ায় তাহলে ঐ একজন অন্যায় করতে ভয় পাবে। সে অন্যায় কোন দিন মাথা উচু করে দাড়াতে পারবে না। 

বর্তমান একজন অন্যায় করে আর নয় জন মাথা নত করে থাকে, নিরাপত্তার কথা ভেবে। আজ আমি নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছি বা দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছি কিন্তু কালতো এমন হতে পারে আমাকে কেও পিটিয়ে মারার চেষ্টা করছে বা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করছে, তখনতো কেও এগিয়ে আসবে না। আমাকে হয়ত রিফাত, রানু বা বিশ্বজিতের মত জীবন বিলিয়ে দিতে হবে।

তাহলে এর শেষ কোথায়। এর দায় কে নিবে? কে রুখে দাড়াবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে?

যখন প্রতিবাদ করার কথা তখন প্রতিবাদ না করে এমন সময় প্রতিবাদ করে, তার আগে রিফাত, রানু, বিশ্বজিতের মত মানুষ গুলোকে মুল্যবান জীবন চলে যায়। তাহলে লাভকি? যদি অন্যয়ের বিরূদ্ধে কথা না বলি, রুখে না দাড়াই তাহলে মনস্তত্ব থাকল কোথয়। আর এই সব মনস্তত্বহীনরা মানুষের মত দেখতে কিন্তু মানুষ না।

লেখক: শিক্ষার্থী; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin