মঙ্গলবার,১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ অপরাহ্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ২১ ২৩

মো. গোলাম মোস্তফা-

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনেটে ভাষণ দিয়েছেন। সিনেটে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের কুদস ফোর্সের সুলাইমানি হত্যাকে ট্রাম্প প্রশসানের বড় অর্জন বলে প্রচার করেছেন। এদিকে ট্রাম্প একইসাথে নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে সামনে এনেছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতি ২০০৬ সাল থেকে উপস্থাপিত হয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনডোলিজা রাইস ২০০৬ সালে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবে এক বৈঠকের পর নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতির কথা ঘোষণা দেন। তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে ওঠে। নীতি বাস্তবায়নে নানা কর্মকর্মপরিকল্পনা হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। আর তাতে সহযোগতিা ও সমর্থন দেয় ব্রিটেন এবং ইসরায়েল। নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে মধ্যপ্রাচ্যকে ভেঙে খা খা করে ফেলার কথা বলা হয়। ২০০৬ সালের ১৮ই নভেম্বর ওই ঘোষণার এক মাস পরেই ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে হামলা চালায়। এতে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন।

নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতিটি শুধ মুখে মুখেই নয়, মানচিত্র আকারে ২০০৬ সালের জুন মাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘আর্মড ফোর্সেস’ জর্নালে প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমির সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল রাল্ফ পিটার্স। আর নতুন মধ্যপ্রাচ্যের এই মানচিত্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের ৫ই জানুয়ারি। এই মানচিত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সৌদি আরবকে ভেঙে দুই ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা নিয়ে ‘ইসলামিক স্যাকরেড স্টেট’ নামে নতুন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে। 

অন্যদিকে ইরাকে কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ‘ফ্রি কুর্দিস্তান’, বর্তমান রাজধানী বাগদাদ ও অন্যতম শহর বসরা নিয়ে ‘আরব শিয়া স্টেট’ এবং সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ‘ইরাক সুস্টি স্টেট’ নামে তিনটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে। আর এশিয়ার দেশ পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও করাচি নিয়ে মূল পাকিস্তান এবং গোয়াদর বন্দর বিশিষ্ট বেলুচিস্তান নিয়ে ‘ফ্রি বেলুচিস্তান’ নামে দুটি রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে। ইসরাইলের পাশ্ববর্তী সিরিয়া ও লেবাননকে ভেঙে ফেলে ইসরাইলকে আরো বড় রাষ্ট্রে পরিণত করার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতি ব্যাপকভাবে উপস্থাপিত হবার পরপরই ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট মুসলিম বিশ্বের সংগঠন ওআইসি জরুরী সভা ডেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিকে প্রত্যাখান করেছে। তবে ওআইসির ওই সভায় ইরান আমন্ত্রিত হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মধ্যপ্রাচ্য তার ভেতরের দ্বন্দগুলো কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতি কতোটা সফলভাবে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিহত করতে পারবে সেটা নিয়ে। কেনোনা যুক্তরাষ্ট্র তার নতুন মধ্যপ্রাচ্যে নীতি বাস্তবায়নে জোরালো অবস্থান নিচ্ছে। 

কিন্তু কেনো যুক্তরাষ্ট্রের এত তোড়জোড়? মূলত যুক্তরাষ্ট্র চাইছে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে আরো শক্তিশালী করতে। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক ক্ষমতাকে খর্ব করতে। মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া- সুন্নী বিবাদকে জিইয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এতোদিনের যে প্রচেষ্ট, সেটার সফলতম বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে মধ্যপ্রাচ্যকে খা-খা করে ফেলার মাধ্যমে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে ঘন ঘন বিদ্রোহ এবং জঙ্গী উত্থানও যুক্তরাষ্ট্রকে চিন্তায় ফেলেছে। যদিও এটা যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রকল্প। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জিইয়ে রাখা এসব বিবাদই ওআইসিকে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে বাধা দিবে। আর এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকল্প। এখন দেখার বিষয় ওআইসি কতোটা দ্রুততার সাথে তাদের অভ্যন্তরীণ বিবেদের বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে মধ্যেপ্রাচ্য বিষয়ে কতোটা জোরালো পদক্ষেপ নেয় সেটা। আর এতে ব্যর্থতা আসলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার বলয় দূর্বল হয়ে আসবে। আর সেক্ষেত্রে সফল হবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মধ্যপ্রাচ্য নীতি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin