বৃহস্পতিবার,২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ অপরাহ্ন

মেয়াদোত্তীর্ণ নেতৃত্বে চলছে রাবি শিক্ষক সমিতি

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২১ ২৩ ১৮

রাবি প্রতিনিধি-

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক সমিতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও হয়নি নির্বাচন। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই এখনো রয়েছে সমিতির কার্যকরী সংসদের দায়িত্বে। যদিও সমিতির নেতারা দাবি করছেন, সাধারণ সদস্যদের অধিকাংশই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বৈধতা দিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষক বলছেন, করোনার অজুহাতে মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি ক্ষমতা আকড়ে ধরে রেখেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল। নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের হলুদ প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে এবং বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সাদা প্যানেল সভাপতিসহ ৫টি পদে জয়লাভ করে। এক বছর মেয়াদি এ কমিটি ২০১৯ সালের ৫ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ৫ মে।

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ারও প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের।

জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ফারুকী বলেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরই আমরা অনলাইনে ভার্চুয়াল সাধারণ সভা করেছি। সভায় সাধারণ সদস্যদের অধিকাংশই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বৈধতা প্রদান করেন।

যদিও সম্মিলিতভাবে এ ধরনের কোনো বৈধতা দেয়া হয়নি বলে দাবি করছেন ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতানুল ইসলাম টিপু। তিনি বলেন, আমরা সাধারণ সদস্যরা মৌখিকভাবে বেশ কয়েকবার শিক্ষক সমিতিকে বলেছি এবং কিছুদিন আগে ৭৪ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকদের পক্ষে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছি। সেখানে জানতে চেয়েছি শিক্ষক সমিতির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আর কতকাল ক্ষমতায় থাকবে। যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন দিচ্ছে সেখানে রাবিতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায়?

‘এছাড়া তারা যে কমিটির বৈধতা নিয়েছেন এমন কোনো লিখিত ডকুমেন্টসও নেই। বর্তমানে এই কমিটি পুরোপুরি ‘অবৈধ’।; এমনটাই মনে করছেন অধ্যাপক টিপু।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, সমিতির অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষকরা বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন না দেওয়ার পক্ষে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নির্বাচন দিলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেহেতু এর পক্ষে না তাই আমরা দেইনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিলে আমরা এক মাসের মধ্যে নির্বাচন দেবো।

করোনার অজুহাত দেখিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ক্ষমতা আকড়ে ধরে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শহীদ ইকবাল। তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে রাবি শিক্ষক সমিতি মেয়াদ শেষ করে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে না। আসলে তারা করোনার অজুহাত দেখাচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তো নির্বাচন হচ্ছে। এর মানে এরা ক্ষমতা আকড়ে ধরে থাকতে এমনটা করছে। এটা অনৈতিক এবং সংবিধান বিরোধী। এটি একটি অসমর্থিত শিক্ষক সমিতি। অধিকাংশ শিক্ষকেরই এটাতে সমর্থন নেই।#


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin