মঙ্গলবার,১১ মে, ২০২১ অপরাহ্ন

রাঙ্গাবালীতে অনুমোদনহীন সমিতি থেকে ১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১ ১৮ ৩২
ছবি-সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী-

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে উপকূলীয় বিদ্যুতায়ন ও মহিলা উন্নয়ন সমিতি (উবোমাস) নামক একটি সমিতি থেকে মাইক্রোক্রেডিট অথোরেটি’র অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে প্রায় ১ কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হয়েছে। উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৩১৪ জনকে এ ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়। স্বল্প সুদ ও বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধার আশ্বাস পেয়ে প্রত্যন্ত এ অঞ্চলের মানুষও হুমরি খেয়ে ঋণ গ্রহণ করছে। কিন্তু ঋণ এখন তাদের অনেকের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রত্যান্ত অঞ্চলের খেঁটে খাওয়া মানুষগুলো সময় মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে মানষিক নির্যাতন সহ মামলা-হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩৫ জন সদস্য নিয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার নদী ও সাগর বেষ্টিত দ্বীপ চরমোন্তাজ ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হয় উপকূলীয় বিদ্যুতায়ন ও মহিলা উন্নয়ন সমিতি (উবোমাস)। উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুতায়ন করার লক্ষে তাদের সদস্যরা সৌর বিদ্যুতের বাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরী করতো। সেই সময়ে সমিতির সভাপতি ছিলেন রুনু খান। সমিতি পরিচালনা করতেন এম. নাসির উদ্দিন। এভাবে কয়েক বছর চললেও পরবর্তিতে স্বেচ্ছাচারিতা সহ নানা অভিযোগে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে সমিতির সদস্যরা।

পরিচালক এম. নাসির উদ্দিনের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলায় সমিতির সভাপতি রুনু খান সহ ১৮ জনকে একসঙ্গে অব্যহতি দেখিয়ে, নতুন করে সভাপতি করা হয় সহ সভাপতি সাহিদা গাজীকে। এনিয়ে মাললাও চলমান রয়েছে। বর্তমানে এম.নাসির উদ্দিন ও সাহিদা গাজীর দখলে আছে সমিতি। একসময়ে সৌর বিদ্যুত নিয়ে তারা কাজ করলেও, ২০১৭ সালের দিকে এই সমিতি থেকে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া শুরু করেন। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার অনুমোদন নেই তাদের। নিয়মানুসারে তাদের ৩৫ সদস্যের বাহিরে ঋণ দিতে হলে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলারেটি অথোরেটি(এমআরএ) এর অনুমতি লাগবে। কিন্তু নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারের অনুমোদন না নিয়েই গত ৪ থেকে ৫ বছর যাবৎ অবৈধভাবে এ ক্ষুদ্রঋণদান কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

হাফেজা বেগম(৩০)। তার স্বামী আল আমিন কাজী। পেশায় একজন দিনমুুজুর। বছর দুয়েক আগে উবমাস থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন হাফেজা। হাফেজা জানান, অর্থ সংকটে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। ঋণের কিস্তি দেয়া প্রায় শেষ। এরই মধ্যে গত বছরে করোনার লকডাউনে কাজ বন্ধ হয়ে যায় তার স্বামীর। একারণে দু’মাসের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি। টাকার জন্য ফিল্ড ম্যানেজার বারবার চাপ প্রয়োগ করেন। কাজ শুরু হলে টাকা পরিশোধ করার কথা বললেও তার স্বামী আল আমিনকে মারধর করতে তেড়ে আসেন ম্যানেজার মাসুদ। পরবর্তিতে তাদেরকে মামলারও হুমকি দেয়া হয়।

কুলসুম বেগম নামের এক ঋণ গ্রহীতা জানান, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার আশ্বাস দেয়ার কথা বলায় আমরা ঋণ নিয়েছি। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা থাকলেও তা এখন দেয়া হচ্ছেনা। প্রতি বছর একবার করে সঞ্চয়ের টাকা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল, তা এই ৪ বছরেও দেয়া হয়নি। শুধু প্রথম বছর একবার দিয়েছিল।

উবোমাস’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রুনু খান জানান, সাগর পাড়ের মানুষের বিদ্যুত সুবিধার কথা চিন্ত করে আমরা ৩৫ জন নারী মিলে এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের সদস্যরা সৌর বিদ্যুতের বাতি তৈরী সহ বিভিন্ন কাজ করতো। বিশ্বব্যাংক থেকে কয়েক বার প্রনোদনাও পেয়েছিলাম। এমনকি প্রশিক্ষণের জন্য আমি সহ আমাদের কয়েকজনকে আমেরিকায় নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তিতে শৃংখলা ভঙ্গকরে আমাদের বাদ দিয়ে সমিতি দখলে নিয়ে তারা এখন যা খুশি তা করতেছে। যে গুলো করা এ সমিতির কাজ নয় সেগুলো করে উবোমাসকে বিতর্কিত করছেন দখলদাররা।

এব্যারে জানতে চাইলে ‘উবোমাস’ এর নির্বাহী পরিচালক এম.নাসির উদ্দিন জানান, মহিলা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে আমরা সমিতির কার্যক্রম চালাচ্ছি। ক্ষুদ্র ঋণ প্রোগ্রাম চালানোর জন্য এমআরএ অনুমোদন দরকার এটা আমি জানি। কিন্তু ২০১৩ সালের পরে এমআরএ এর সার্কুলার বন্ধ। সার্কুলার না ছাড়ায় আমরা অনুমতি নিতে পারি নাই।

পটুয়াখালী জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম জানান, আমাদের কাছ থেকে ৩৫ জন্য সদস্যের একটি অনুমোদন নিয়েছে উবোমাস। এই সদস্যদের বাহিরে তারা ঋণ দিতে হলে অবশ্যই মাইক্রোক্রেডিট অথোরেটি’র অনুমোদন লাগবে। অবৈধভাবে ঋণদান কর্মসূচী চালিয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাশফাকুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin