বুধবার,১৬ জুন, ২০২১ অপরাহ্ন

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ স্ব-মিল, বন কর্তৃপক্ষ যেন অন্ধ

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ২১ ৩৬
ছবি-আন্দোলন৭১ নিউজ

গোফরান পলাশ- 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সংরক্ষিত বনের মধ্যে স্ব-মিল স্থাপনের কাজ চললেও বন কর্তৃপক্ষ যেন দেখছেনা। পরিবেশ ও বনবিভাগের ছাড়পত্র ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবেই মহিপুর রেঞ্জের মধ্যে গড়ে উঠছে স্ব-মিলটি। স্ব-মিল মালিক বিধান চন্দ্র হাওলাদার এটি তার রেকর্ডীয় জমি দাবি করলেও স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে স¦-মিলটি স্থাপন করা হচ্ছে। স¦-মিলের দক্ষিণ পার্শ্বে ৪৮নং পোল্ডারের পাউবো বেড়িবাঁধের সরকারি জমি আর উত্তর পার্শ্বে খাপড়াভাঙ্গা নদী, মাঝখানে বনবিভাগের বাগান। মিলের পাশে রয়েছে কেওড়া, গোলগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। মাটির নিচে গোলগাছ চাপা দিয়ে স-মিলের ট্রলী বসানো হয়েছে। মিল স্থাপনের পূর্ব পরিকল্পনা হিসেবে আগেভাগেই দু’টি কুটার কুড় বসানো হয়েছে। আর চলমান লকডাউনের সুযোগে স্থাপন করা হচ্ছে করাত কলটি।

সূত্র মতে, স্ব-মিল স্থাপনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স প্রাপ্তির পর নিতে হয় পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। ফলে যত্রতত্র স¦-মিল স্থাপনের কারণে হুমকিতে রয়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। স¦-মিল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২-র আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, করাত কল স্থাপন বা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স ফি বাবদ ২০০০ টাকা ‘১/৪৫৩১/০০০০/২৬৮১ (বিবিধ রাজস্ব ও প্রাপ্তি)’ খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা যেকোন সরকারি ট্রেজারিতে জমাপূর্বক উহার ট্রেজারি চালান আবেদনপত্রের সহিত সংযুক্ত না করলে আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে স¦-মিল স্থাপন করা যাবে না। বিধিমালায় আরো বলা আছে, এ আইন কার্যকর হওয়ার আগে কোনো নিষিদ্ধ স্থানে স-মিল স্থাপন করা হয়ে থাকলে আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ  থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। যদি তা না করা হয় তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা বন্ধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু আইন থাকলেও যেন এর কোনটির প্রয়োগ নেই।

স-মিল মালিক বিধান চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘আশেপাশে সরকারি জমি থাকলেও মিলটি রেকর্ডীয় জমিতে বসানো হয়েছে। আমি বন বিভাগের একটি গাছও নষ্ট করিনি।’

মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নতুন স-মিল স্থাপনের বিষয়টি আমার জানা নেই। চলমান লকডাউনের সুযোগ নিয়ে মিলটি স্থাপন করা হচ্ছে। আমি খোঁজ খবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin