শনিবার,৬ জুন, ২০২০ অপরাহ্ন

সুসময়ের নেতারা দুঃসময়ে নেই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০ ২০ ৪৯

গোফরান পলাশ-

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থেকে কর্মবিমূখ হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারগুলোর পাশে সরকার ছাড়া এখন আর কেউ নেই। সুখ দু:খে পাশে থাকার ফুল ঝুড়ি নিয়ে নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে ঘরে ঘরে যাওয়া সেই নেতাদের এখন আর দেখা মিলছেনা পথে প্রান্তরে।

টানা আড়াই মাসের লকডাউনে পড়ে দিশেহারা দুস্থ পরিবারগুলোর পাশে নেই এখন ভিন্ন মতের কোন রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনও। এখন আর দুস্থ মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা বলার যেন কেউ নেই। তবে দুস্থ মানুষের দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া ছিটে ফোটা কিছু ত্রাণ নিয়ে দেখা গেছে কয়েকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে।

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ জন কোটিপতি প্রার্থী অবতীর্ন হন সরকারি দলের মনোনয়ন যুদ্ধে। এদের মধ্যে একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাকীদের কাউকে দেখা না গেলেও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একজন যুবলীগের হেভিওয়েট নেতা শামিম আল সাইফুল সোহাগ টয়োটা গাড়ি নিয়ে ঘুরে ঘুরে অনুসারীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে ছবি তুলেছেন। যা দিয়ে নিজের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও তার অনুসারী ক’জন সাংবাদিককে দিয়ে ৫হাজার দুস্থ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। আর তা পরে অনুসারীদের ফেসবুক আইডিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন জোরে শোরে। যাতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরত্বপূর্ন পদসহ আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পান তিনি।

জাতীয় সংসদের পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনেও একাধিক প্রার্থী ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে নির্বাচিত কিংবা অনির্বাচিত কারও দেখা মিলছেনা দুস্থদের পাশে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী তাকারীদের তো দেখাই নেই। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিষ্ট পার্টি, জাসদ, বাসদ তো দুস্থদের ধারে কাছে নেই। ছাত্রদল দলীয় অনুসারী শতাধিক দুস্থ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

এছাড়া সরকারি ত্রাণ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেছে সরকারি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে। কিন্তু কলাপাড়ায় দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এরা তৃনমূল পর্যায়ের দলীয় নেতা-কর্মীদের ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ দুস্থদের জন্য খাদ্য সহায়তা, ইফতার সামগ্রী, সবজি বিতরণসহ কৃষকদের ধান কেটে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ করোনা পরিস্থিতিতে দুস্থদের পাশে নেই। তবে শ্রমিকলীগের পক্ষ থেকে একদিন ধান কাটার ছবি পাওয়া গেছে ফেসবুকে। উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জাকিরকে দেখা গেছে নিজ অর্থায়নে তার টিয়াখালী গ্রামের দুস্থদের পাশে খাদ্য সহায়তা নিয়ে দাঁড়াতে। মহিপুর থানা যুবলীগ দলীয় ক’জন অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

এদিকে করোনা দু:সময়ে দুস্থদের ত্রাণ বিতরণে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অবস্থানের পরও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা সরকার প্রধানের নির্দেশনা এড়িয়ে সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত পদ থেকে বরখাস্ত, দল থেকে অব্যাহতি, গ্রেফতার, মামলা ও হাজতবাসের ঘটনার পরও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রমান মিলছে অস্বচ্ছতার।

যুবলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, সংগঠনের সভাপতি সম্পাদক যথাক্রমে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর থেকে সংগঠনটি যেন অনেকটা নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত না আসায় স্থবির হয়ে পড়েছে দলীয় কার্যক্রম। এজন্য করোনা পরিস্থিতি তেমন কোন উদ্দোগ নেই দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি সূত্র জানায়, সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংগঠনে নেতৃত্ব শূন্যতা দেখা দিয়েছে। সম্পাদক কাউন্সিলর হওয়ায় পৌরসভা ও আখেরাত চিন্তায় তাবলীগ নিয়ে ব্যস্ত। তবে আলোচনায় নেই শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ ও জয় বাংলা ক্লাব।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin