বৃহস্পতিবার,২২ অক্টোবর, ২০২০ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ০৯ অক্টোবার, ২০২০ ২৩ ৩৭

ফারুক আহমাদ আরিফ-

মানুষের পরিচয়ই তার কাজ। আল্লাহ তা’আলা মানব সৃষ্টির উৎসই কাজ বলে ঘোষণা করেছিলেন ফেরেস্তাদের কাছে। মানুষ যখন কাজে মগ্ন থাকে তখন সুস্থ ও স্বপ্নে ডুবে রয়। কিন্তু কাজে না থাকলে সে অন্যায়ে জড়িয়ে পড়ে। মহানবী সা. বলেছেন- অলস মস্তিষ্ক শয়তানের ঘর। অর্থাৎ বেকারত্ব হচ্ছে শয়তানের আড্ডাখানা। মানুষ বেকার থাকলে তার ব্যয়ভারও বেড়ে যায়। নিজেকে স্থির রাখতে পারে না। মনে নানা ধরনের চিন্তা বাসা বাধে। বেশির ভাগই নেতিবাচক অর্থাৎ অন্যায় ও অপরাধমূলক।  

এখন কথা হচ্ছে, কাজ মানুষ পাবে কোথা? সে কি কাজ করবে? বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজের সংস্থান কিভাবে, কোথায় হবে? এসব অসংখ্য প্রশ্ন সামনে আসে। এসবের সমাধান কি তা নিয়ে রাষ্ট্রের অভিভাবকদের পথ বের করে তা বাস্তবায়ন করতে হয়। রাজনৈতিক নেতারা কাজের কাজ কি করছে! হাতেগোনা কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি ছাড়া বাকিরা আছে নিজের ডুলি বড় করতে। দেশের বিপুল সংখ্যক বেকার মানুষ নিয়ে তার ন্যূনতম চিন্তা নেই। ব্যক্তি কাজ করলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী হয়। মন-মানসিকতা ভালো ও উন্নত থাকে। সমৃদ্ধশালী অবস্থানে যেতে পারে ব্যক্তি, দেশ।  

বেকার থাকলে মাথা ভারি থাকে। কোন কিছু ভালো লাগে না। কল্যাণমূলক কিছু মাথায় আসে না। শুধু চিন্তা আর চিন্তা। এসব চিন্তায় বাড়ে ধূমপান, মদ্যপান, চুরি-রাহাজানী, আত্মসাৎ, ধর্ষণ এমনকি হত্যার মতো অপরাধও সংঘটিত হয়। সমাজে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়ে অশান্তি তৈরি হয়। 

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের হাতে তার যোগ্য কাজ তুলে দেয়া। দিকনির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে নেয়া। আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজের ব্যবস্থা সরকার কি করে করবে? এটা কি সম্ভব? ‘সম্ভব’। 

কারণ, আল্লাহ বলেছেন ‘আমি মানুষ ও জ্বিনকে কাজের জন্য সৃষ্টি করেছি’ জারিয়াত-৫৬। অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট কাজ তিনি তৈরি ও নির্ধারণ করে রেখেছেন। এখন শুধু সেই ব্যক্তির হাতে যোগ্য কাজ তুলে দেয়ার দায়িত্ব অভিভাবকের। পৃথিবীর সূচনা থেকে ধ্বংস পর্যন্ত যত মানুষ আসবে তাদের প্রত্যেকেই যদি নিজেদের চাওয়া অনুযায়ী কাজ করে তবুও কাজ শেষ হবে না। 

২০১৮ সালের বিবিএসের তথ্যানুযায়ি, দেশে মোট কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ। বাকি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে অর্থাৎ বেকার। প্রতিবছর ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে আসে কিন্তু চাকরি পায় মাত্র ৭ লাখ, ১৫ লাখ বেকার থাকে। তাই শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে কর্মমুখি। পড়াশোনার সাথে সাথে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। রাষ্ট্রকে সকল মানুষের হাতে কাজ দেয়ার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করতে হবে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ৫০ বছরে পা রাখবে। আমাদের প্রত্যাশা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে সরকার।

লেখক: আহ্বায়ক-মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস ও মুখপাত্র (প্রধান সমন্বয়ক)- নো ভ্যাট অন এডুকেশন

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin