শনিবার,৬ জুন, ২০২০ অপরাহ্ন

স্বেচ্ছাসেবাসহ নানা কাজে ব্যস্তই আছেন শিক্ষার্থীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ মে, ২০২০ ১৮ ৩১

আশিক ইসলাম-

করোনাভাইরাসের ভয়াল গ্রাসে স্থবির হয়ে গেছে পুরো পৃথিবী। এর থাবা থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশও। দিন দিন বেড়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশব্যাপী ভাইরাসের বিস্তাররোধে গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এখন নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। ঘরবন্দি অবস্থায় শিক্ষার্থীদের দিনগুলো কেমন কাটছে এ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আশিক ইসলাম।

'বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছি'- সাথী সাহা; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাবি।

করোনাভাইরাসে পুরো পৃথিবী আজ স্তব্ধ। এর ভয়াবহতা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বাড়িতে বসে সময়টা কাজে লাগাচ্ছি। বাগেরহাট জেলা সমিতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে কয়েক দফায় "বাগেরহাটের অসহায়দের পাশে বাজেস" নামক প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে বাগেরহাটের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে দুস্থ ও অসহায়  মানুষের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছি। ঈদকে কে সামনে রেখে এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।  পাশাপাশি নবজাগরণ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে "রাবিয়ানদের পাশে রাবিয়ান" প্রোগ্রামে কাজ করছি। তাছাড়াও "ক্লিন ক্যাম্পাস, ক্লিন মাইন্ড, রাবি" এর পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি কল্পে  হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও লিফলেট বিতরন করেছি। করোনার এই মহামারী থেকে উত্তরণ পেতে সকলকেই  নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া জরুরী।

'রুটিন মাফিক পড়াশুনা করার চেষ্টা করছি'- হাসান রেজা; ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাবি।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি রয়েছে। এই সময়টা বাড়িতে অবস্থান করছি।  চেষ্টা করছি সময়ের সঠিক ব্যবহার করার জন্য। গ্রামে এসেই করোনাভাইরাস  সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে সচেতনতা করার জন্য সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। রুটিন মাফিক পড়াশোনা করার চেষ্টা করছি। নিয়মিত লেখালেখি করার পাশাপাশি ধর্মীয় ইবাদত তথা নামাজ পড়া এবং কুরআন পড়া শিখছি। বাড়ির বাচ্চাদের পড়াচ্ছি এবং বাবা-মায়ের সাথে সময় কাটাচ্ছি। সবার সাথে যোগাযোগ রাখছি। নিয়মিত অনলাইনে বিভিন্ন পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করছি।

'সময় কাটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে'- মারজিয়া আকতার; চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগ, রাবি।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি যে মহামারীর রূপ নিয়েছে তা কারো অজানা নেই। আর এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই সবাই ঘরে অবস্থান করছে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই।  দীর্ঘ সময়টা ভালো কাজে লাগার জন্য চেষ্টা করছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সময় ব্যয় করলেও তা বেশি ভাগ সময় শিক্ষামূলক কাজে লাগালোর চেষ্টা করছি। পরিবারে প্রতিটি সদস্যের সাথে গল্প আলাপ-আলোচনা করে সময় কাটছে। সেই সঙ্গে নিয়মিত প্রতিবেশীর খোঁজ খবর রাখছি। এছাড়া সিলেবাসভুক্ত বই, গল্পের বই, ছবি এঁকে, টিভি, মুভি দেখেও নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি। ক্যাম্পাসের সেই ব্যস্তময় সময়কে অনেক মিস করছি। আর আশা করছি খুব শীঘ্রই এক  করোনা মুক্ত বিশুদ্ধ পরিবেশে আবার দেখা হবে সবার।

'পরিবারের সাথে সময় কাটছে'-খাইরুন নাহার পিংকি; পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগ, রাবি।

মহামারী করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকে  আজ স্থবির করে দিয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বোধহয় এটাই সবচেয়ে দীর্ঘতম ছুটি। এমন পরিস্থিতিতে ঘরেই থাকতে হচ্ছে। আগে যে ছুটিগুলো পেতাম সেগুলোতে পড়াশোনার চাপ ছিলো। এবারের ছুটিতে সেরকম কোন চাপ নেই। পরিবারের কাছাকাছি থেকে সবার সাথে সময় কাটাচ্ছি। মাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করছি। সেই সঙ্গে কিছু লেখকের পিডিএফ বই, অনলাইনে নিউজ পড়ছি। অবসর সময়ে নাটক, সিরিজ দেখছি, ক্যারিয়ার ক্লাবের লাইভ সেশন গুলোতে অংশগ্রহণ করছি। তবে ক্যাম্পাসের দিনগুলোর কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে। সুস্থ হয়ে উঠুক পৃথিবী আবার ফিরে যাবো ৭৫৩ একরে।

'সময় কাটছে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে'- তাসবিয়া ইসলাম তুলি; উর্দু বিভাগ, রাবি।

করোনাভাইরাস যাতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে না পারে সে জন্য চলছে লকডাউন। কাছের মানুষগুলোকে ভালো রাখার জন্য মেনে চলতে হচ্ছে সামাজিক দুরত্ব। এমন হয় তো কেউ ভাবেনি। প্রথম দিকে একটু বিরক্ত লাগলেও মানিয়ে নিয়েছি। একদিন পৃথিবী সুস্থ হবে এই বিশ্বাস এবং প্রার্থনা। ঘরবন্দি এই সময়টা  ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে কাটানোর চেষ্টা করছি। বাড়ি ও আশেপাশের ছোট শিশু ও 

বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে গল্প করা আমার পছন্দের কাজগুলার মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি বই পড়া, আর এই অবসরে চিন্তামুক্ত হয়ে গভীর ভাবে ইবাদত বন্দেগী করা। করোনা পরিস্থিতির জন্যই পরিবারের সবার সাথে সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছি। সাধ্যমত পাশের মানুষগুলাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।

'বোরোধান ঘরে তোলার কাজ করছি'- রেদুয়ানুল ইসলাম; পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগ, রাবি।

করোনার প্রকোপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব বন্ধ। দুই মাস ধরে বাড়িতে অবস্থান করছি।  এমন দীর্ঘ ছুটি অতীতে কখনো কাটানো হয়নি। আমি বরাবরই কার্টুন প্রেমি। অবসর সময়টা কার্টুন দেখেই কাটাচ্ছি। পরিবারের সাথে ইফতার ও সেহেরীর করা বরাবরই আনন্দের। অনাকাঙ্ক্ষিত ছুটি সে সুযোগটা করে দিয়েছে। চলছে বোরোধান ঘরে তোলার মৌসুম। মা-বাবার সাথে ধান তোলার কাজ করছি। তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিলো, শেষ হয়নি। তাই মনে কিঞ্চিৎ ব্যাথা অনূভুত হয়। ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডাটা খুব মিস করছি, সাথে মিস করছি হলের ডাইনিং। ক্যাম্পাসে কাটানো সময়টুকু সমসময়ই আনন্দের। তবে আমি বাড়িতে থাকতেই বেশি উপভোগ করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin