মঙ্গলবার,১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ অপরাহ্ন

৭১ একটি চেতনা: যেথায় পাবো খুঁজে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বার, ২০১৯ ১৪ ৫৭

আহসান হাবীব- 

দীর্ঘদিন বাঙালিদের অত্যাচার অবিচার করে আসছিল পাকিস্তানিরা। তাদের এই শোষণ বঞ্চনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জোয়ার জাগে বাঙালি প্রাণে। জেগে উঠে বাংলার সমাজ। ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক কালজয়ী ভাষণের মাধ্যমে জেগে উঠে বাংলার আকাশ বাতাসসহ সমস্ত মানুষ। শুরু হয় পাকিস্তানিদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের এই মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়। এই দীর্ঘ ৯ মাস বাঙালিদের জন্য এক প্রেরণা, এক চেতনা। যেখানে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশি লাখ লাখ শহীদের আবেগ, ভালবাসা ও আত্মত্যাগের মহিমা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের গৌরবময় আত্মত্যাগ অনুভব করার আদর্শ স্থান হলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

ছবি- আন্দোলন৭১

আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর নবনির্মিত সুদৃশ্য ভবনটির দ্বিতীয় তলায় উঠতেই বিশাল করিডরে দেখা মিলল শিখা চির আগুনের। চারপাশে পানি আর মাঝখানে শহীদের স্মৃতি নিয়ে জ্বলছে শিখা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্মিত হয়েছে এই শিখা চির আগুন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, মরণপণ যুদ্ধ করেছেন, তাদেরকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাদুঘরে রয়েছে নানা স্মারক ও নিদর্শন। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দূলভ আলোকচিত্র, চিঠিপত্র, ভিডিও চিত্র, দলিল, স্মৃতিচিহ্নের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিটি গ্যালারি সাজানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এখানে প্রায় ২৫ হাজার নিদর্শন রয়েছে। গ্যালারিগুলোতে ঘুরে ফিরে তা দেখা যাবে। এছাড়া রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। অডিও-ভিডিও ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নানা নিদর্শন।


ছবি- আন্দোলন৭১

জাদুঘরের দুই নম্বর গ্যালারির নাম 'আমাদের অধিকার, আমাদের ত্যাগ'। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করতে বাঙালি যেসব ত্যাগ স্বীকার করেছে, তারই বিভিন্ন নিদর্শন উঠে এসেছে এ গ্যালারিতে। রয়েছে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। এরপর কালো টানেলের পুরোটা জুড়ে রয়েছে ২৫ শে মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার নানা নিদর্শন। আলোকচিত্রে, ভিডিওচিত্রে নানা ভাবে উঠে এসেছে সেই কালো রাতের ভয়াবহতার করুণ ও নির্মম দৃশ্য। 

জাদুঘরের সবগুলো গ্যালারির প্রায় প্রতিটি নিদর্শন গুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলেন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক সাহস মোস্তাফিজ।  

তিনি বলেন,  নিজেদের সম্পর্কে জানতে হলে এ জাদুঘরটি সবারই ঘুরে যাওয়া উচিত। এখানে এলে সবাই বুঝতে পারবে আমরা কোথা থেকে এসেছি,  আমাদের অতীত কি, প্রতিটা অর্জনের জন্য আমাদেরকে কি পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আর এগুলো জানাটা সবচেয়ে জরুরী নতুন প্রজন্মের জন্য।


ছবি- আন্দোলন৭১

‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাদুঘর। এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের উদ্বোধন হয় ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ। 

তবে প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পর নিজস্ব ভবনে স্থান্তরিত হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন নির্দেশনা। জনসাধারণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারের দেয়া তহবিলে জাদুঘরের নয়তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

১৬ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ভাবে এর উদ্বোধন করেন। তিনিই ২০১১ সালের ৪ মে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে নির্মাণ কাজের সূচনা করেছিলেন।

আন্দোলন৭১/এএইচ/এস 


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin