শুক্রবার,২৭ নভেম্বর, ২০২০ অপরাহ্ন

অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, মৎস্য খামার ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ অক্টোবার, ২০২০ ১৭ ২০
অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ছবি- আন্দোলন ৭১ নিউজ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি-

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে লক্ষ্মীপুরে টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে। এতে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে জেলার বাসিন্দরা।

অতিবৃষ্টিতে ভেসে গেছে মাছের খামার ও ফসলি ক্ষেত। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে শীতকালীন শাক-সবজির বীজতলার। এতে আবারও আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছে মৎস্য খামারী ও কৃষকরা।

এদিকে বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে ক্রটি দেখা দেওয়ায় অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীন ছিলো পৌর এলাকাসহ পুরো জেলায়। গত বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শনিবার ভোর রাতে শেষ হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠে গেছে। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট এবং মাঠ। এছাড়া আমন ধানের জমিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে আমন ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে। এতে ধান গাছে পচন ধরার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এছাড়া পুকুরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ ভেসে গেছে।

পৌর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, অতি বৃষ্টিতে পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তা-ঘাট পানির নীচে তলিয়ে যায়। বিভিন্নস্থানে ড্রেনেজ সমস্যার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আর দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বাসিন্দাদের। এছাড়া দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর আলী হাসান গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, অতিবৃষ্টিতে তাদের উঠানে পানি উঠে গেছে। তাদের এলাকার বিস্তৃর্ণ আমনের মাঠে অতিরিক্ত পানি জমে আছে। এতে কাঙ্খিত ফলন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

তিনি জানান, ওই এলাকার বিভিন্ন মাছের খামার ও পুকুরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ বের হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন আগেও মেঘনার অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে মাছের খামার ভেসে যায়। এতে দুই দফা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন মৎস্য খামারীরা।

সদর উপজেলা পিয়ারাপুর গ্রামের সবজি চাষী আবদুর রহমান জানান, অতিবৃষ্টিতে তার লাউয়ের ক্ষেতে পানি জমে গেছে। ফলে লাউ গাছগুলো কেটে শাক হিসেবে বাজারে বিক্রি করে দেন তিনি। এছাড়া শীতকালীন বিভিন্ন প্রজাতির সবজিসহ লাল শাক, ফুল কপি ও মুলার বীজ তলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার মজুপুর গ্রামের মৎস্য চাষী সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা বুষ্টির কারণে পানি বেড়ে যাওয়ায় তার পুকুরের মাছ বের হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।রায়পুরে মিজানুর রহিম রাজু বলেন সরকারী খালে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মাছ চাষ করে তাদের আইনের আওতায় আনা অত্যান্ত জরুরি দরকার। তাদের জন্য এখন পুরা রায়পুরে ফসলি জমি পুকুর রাস্তা ঘাট ঘর বাড়ি ডুবে গেছে।গুটি কয়েক লোকের জন্য পুরা রায়পুর বাসি ভোগান্তিতে পড়েছে।

এদিকে শনিবার দিনব্যাপী বৃষ্টিপাত না হলেও আকাশ ছিলো মেঘাছন্ন। কোথাও আবার হালকা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে দেখা গেছে।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin