সোমবার,১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

আবরারকে মারে ১১ জন, সহযোগীতায় ছিল ১৪ জন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ নভেম্বার, ২০১৯ ১৬ ৩১

নিজস্ব প্রতিবেদক-

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে সরাসরি মারধর করেন ১১ জন। শেরেবাংলা হলে তাকে মারধর করা হয়। মারধরকারী ১১ জনকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেন ১৪ জন। এমন অভিযোগ উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

ডিবির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন। 

তিনি জানান, ডেসপাস শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মোট ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১১ জন মারধর করে। বাকি ১৪ জন বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ছিল।

যে ১১ জন আবরারকে মারধর করে-

বুয়েট ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মো. মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত; তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক (বহিষ্কৃত)  মো. অনিক সরকার ওরফে অপু; উপ সমাজসেবা সম্পাদক (বহিষ্কৃত)  ইফতি মোশাররফ সকাল; সাহিত্য সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মো. মনিরুজ্জামান মনির; ক্রীড়া সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন; বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) মো. মুজাহিদুর রহমান ওরফে মুজাহিদ; বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) মো. শামীম বিল্লাহ; বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) মো. সাদাত ওরফে এএসএম নাজমুস সাদাত; বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) মুনতাসির আল জেমি;  বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম এবং বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম ওরফে তানভীর।

জানা যায়, মামলায় এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং এর বাইরে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আরও ছয় জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মোট ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং এজাহার বহির্ভূত ছয় জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  বাকি চার জন পলাতক রয়েছে।

এজাহারনামীয় আসামিরা− মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা ও এএসএম নাজমুস সাদাত।

এজাহারবহির্ভূত ছয় জন− ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, এসএম মাহমুদ সেতু ও রাফি।

গত  ৬ অক্টোবর  রাতে আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত তিনটার দিকে শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ মামলার সব আসামি বর্তমানে কারাগারে আছে। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। যাদের সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin