বৃহস্পতিবার,১৪ নভেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

জিপি অ্যাকসেলারেটরের ষষ্ঠ ব্যাচের কার্যক্রম শুরু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বার, ২০১৯ ১৭ ০৬
  • 70 বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক-

জিপি হাউজে বুধবার সন্ধ্যায় এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হলো স্টার্টআপগুলোর জন্য সাড়ে ৪ মাসব্যাপী গ্রামীণফোন অ্যাকসেলেরেটর প্রোগ্রাম (জিপিএ)-এর ষষ্ঠ ব্যাচের কার্যক্রম।

ভবিষ্যতের উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজাইন করা এই প্রোগ্রামে মূলত সেরা স্টার্টআপগুলোকে নির্বাচন করে সেসব স্টার্টআপসমূহে গ্রামীণফোন অ্যাকসেলেরেটরের রিসোর্স বা সুযোগ-সুবিধাসমূহ ব্যবহারের সুযোগ করে স্টার্টআপগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

জিপিএ-এর ষষ্ঠ ব্যাচে (প্রাক-অ্যাকসেলেরেটর-৪৭৬, অ্যাকসেলেরেটর-৬৪৫) অন্তর্ভুক্তির জন্যে মাত্র ৩ সপ্তাহেই মোট এগারোশ’র বেশি আবেদন জমা পড়ে। সবগুলো আবেদন যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত ৪৫টি দলকে যথাযথ নিয়মানুযায়ী (বৈধ কাগজপত্র দাখিল, একক ও দলগত সাক্ষাৎকার) আমন্ত্রণ জানানো হয়। বুট-ক্যাম্পে অংশ নেয়া দলগুলোর মাঝে ৩৫টি দলকে পরবর্তী পর্বের জন্যে মনোনীত করা হয়। এই পর্যায়ে স্টার্টআপগুলোকে মুখোমুখি স্বাক্ষাৎকার এবং পিচ-প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল্যায়ন শেষে মোট ৯টি প্রতিষ্ঠান জিপি অ্যাকসেলেরেটরের ষষ্ঠ ব্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

ষষ্ঠ ব্যাচের জন্য নির্বাচিত স্টার্টআপগুলো হলো-বেস্ট প্রাইস (ব্যবসায়িক লেনেদেনের ক্ষেত্রে নিলাম নির্ভর মার্কেটপ্লেস), ঢাকা কাস্ট (ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিশেষ সেবা), দর্জি-ই (অনলাইন নির্ভর টেইলর সেবা), এক্সপ্লয়েট (পর্যটন ও আবাসন সেবা), ল্যান্ড-নক (ফিল্ডে নিয়োজিত কর্মীদের পর্যবেক্ষণ করার সেবা), লেট’স ফার্নিশ (আসবাবপত্র ভাড়ার প্ল্যাটফর্ম), পোষাপেটস (গৃহপালিত পোষা প্রাণীদের জন্যে আইওটি নির্ভর সেবা), আমার-স্টক (শেয়ার মার্কেট সংক্রান্ত সেবা) এবং শপ-ওয়ে (বাংলাদেশের দ্রুততম ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থা)।

এই আয়োজন সম্পর্কে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে তরুণদের জন্য ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে আর এই স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোই আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে অন্যতম সহায়ক হবে। এই তরুণদের জন্য সরকারের সকল প্রকার সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আমি জিপি অ্যাকসেলেরেটরের উদ্ভাবনী প্রজেক্টগুলো দেখে অভিভূত এবং উজ্জীবিত  হয়েছি। তরুণদের জন্য এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ জানাই।’

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেন, ‘ডিজিটাইজেশনের এই যুগে অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তনসমূহের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্যে নিজেদের উপযোগী করে তোলাটাই আমাদের জন্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের ডেভেলপার, উদ্ভাবক এবং স্টার্টআপসমূহকে সহায়তা প্রদানের লক্ষে আমরা জিপি অ্যাকসেলেরেটর প্রোগ্রামটি আয়োজন করে থাকি।’

জিপি অ্যাকসেলেটেরর ২.০ মূলত প্রাক-অ্যাকসেলেটেরর এবং অ্যাকসেলেটেরর- এই দুটি ভাগে আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রাক-অ্যাকসেলেরেটর দুই মাসের একটি আয়োজন। এতে অংশগ্রহণকারী দলসমূহ তাদের ব্যবসায় ধারণাটির যৌক্তিকতা প্রমাণ করে থাকেন এবং মৌলিক দিকটি উপস্থাপন করে থাকেন। এই পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ এবং মেন্টরশিপ প্রদানের মাধ্যমে দলসমূহের ব্যবসায় ধারণাসমূহকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেবার জন্য এবং পণ্য কিংবা সেবা বাজারে বিক্রয়ের উপযোগী করে তুলতে সহায়তা প্রদান করা হয়।

অ্যাকসেলেরেটর প্রোগ্রামটি সাড়ে ৪ মাসব্যাপী একটি আয়োজন। এতে এমন দলগুলোই অংশগ্রহণ করে যাদের ইতোমধ্যেই বিক্রয় উপযোগী পণ্য কিংবা সেবা প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচিত দলসমূহ দেশি-বিদেশি মেন্টর, বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ এবং পেশাজীবীদের সহায়তায় ব্যবসায়ের উন্নয়নের জন্য খুবই দরকারি বিষয়সমূহ, যেমন টার্ম-শিট, ভ্যালুয়েশন, ফিনান্সিয়াল মডেলিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান পেয়ে থাকে। আর প্রোগ্রামের শেষ পর্যায়ে স্টার্টআপগুলোর ব্যবসায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ নিশ্চিত সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করা হয়ে থাকে। আর্থিক পরিমাপে এই সহায়তা সমূহের বাজারমূল্য প্রায় ৬৫,০০,০০০ টাকার সমমানের।

জিপি অ্যাকসেলেরেটর প্রোগ্রামের অংশীদার সীডস্টার-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিয়েরে অ্যালাইন ম্যাসন বলেন, ‘গ্লোবাল স্টার্টআপ মানচিত্রে বাংলাদেশকে এক অনন্য অবস্থানে পৌঁছে দেবার অভিন্ন লক্ষ্যে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সাথে একত্রে কাজ করে চলেছে সীডস্টার। স্থানীয় স্টার্টআপসমূহকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দারুণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে জিপি অ্যাকসেলেটেরর প্রোগ্রাম।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সীডস্টার-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিয়েরে অ্যালাইন ম্যাসন, বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের স্টার্টআপ বাংলাদেশ-এর বিনিয়োগ উপদেষ্টা টিনা জাবীন, বেসিস এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, এমওএআর এর সহ প্রতিষ্ঠাতা নাবিলা নওরীন, গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও ও সিএমও ইয়াসির আজমান, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি এবং অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

আন্দোলন৭১/কাজী

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Rokonuddin
Theme Developed BY Rokonuddin