রবিবার,১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

ধরা-ছোঁয়ার বাইরে কক্সবাজার-টেকনাফের ইয়াবা গডফাদার শুক্কুর-ফয়সাল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ নভেম্বার, ২০১৯ ১৩ ১৪

আরাফাত সানি-

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ ডেইল পাড়া এলাকার দুদুর মিয়ার ছেলে শুক্কুর একই এলাকার সুলতান প্রকাশ ধইল্লার ছেলে ফয়সাল এখনো প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে বলে জানা যায়। সাবরাং শাহপরীরদ্বীপের অনেকে আত্নসমর্পণ করলেও ইয়াবা ডন বার্মায়া শুক্কুর ও ফয়সাল এখনো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সুত্রে জানা যায়, গত কয়েক সাপ্তাহ আগে স্থানীয় প্রশাসনের সাড়াঁশি অভিযানে কিছু দিন আত্নগোপনে চলে যায়। এর কিছু দিন যেতে না যেতে টেকনাফের কয়েকজন কথিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যদের ম্যানেজ করে আবারও এলাকায় প্রকাশ্যে। দুদুর মিয়ার ছেলে শুক্কুর মিয়ানমারের মন্ডু মেহেরকুল এলাকা থেকে বিগত ২০ বছর আগে শাহপরীরদ্বীপে এসে জেলে শ্রমিক হিসাবে কাজ করত। এর পর থেকে মিয়ানমারের তার আত্নীয়-স্বজনের সহযোগিতায় বড় বড় ইয়াবার চালান এনে বনে যায় বিপুল সম্পত্তির মালিক। বার্মায়া শুক্কুরের রয়েছে বিলাস বহুল দুতলা বাড়ি, একটি ভাড়া বাসা, রয়েছে নামে বেনামে জায়গা জমি, ঘর-বাড়ি এবং ৩টি বড় ট্রলার।

স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় থাকলেও শুক্কুর, ফয়সাল এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। 

যেভাবে ইয়াবার ডন হলেন শুক্কুর ও  ফয়সাল

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বার্মায়া শুক্কুর মিয়ানমার থেকে শাহপরীরদ্বীপে আসেন। আসার পর ছোট ডিঙ্গি নৌকার জেলে শ্রমিক হিসাবে মাছ শিকারে যেত। সেই জেলে এখন সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপের ইয়াবার ডন।

আরেক ইয়াবার গডফাদার ফয়সালের পিতা সুলতান প্রকাশ ধইল্লাও মিয়ানমার থেকে শাহপরীরদ্বীপে এসে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। তার ছেলে ফয়সাল এখনো শাহপরীরদ্বীপে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বার্মায়া শুক্কুর ও ফয়সাল নিজস্ব বাহিনী তৈরী করে। এসব ইয়াবা চোরাকারবারীরা এলাকায় রাম-রাজত্ব কায়েম করে বেড়াচ্ছেন। তাদের লাখপতি হওয়ার পেছনে রয়েছে ইয়াবার কালো থাবা।

শাহপরীরদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় লাখপতির অভাব নেই তা যেমন চির সত্য। তেমনি শাহপরীরদ্বীপ ডেইল পাড়া এলাকার দুদুর মিয়ার ছেলে ইয়াবা শুক্কুরসহ তার আরো অন্যান্য সহযোগী ইয়াবা কারবারি রয়েছেন। সাধারণ জেলে শ্রমিক থেকে মাত্র ১২-১৫ বছরের ব্যবধানে লাখপতি বনে গেছেন বলে জানা যায়। এই পরিবারের কারণে আশে পাশের এলাকার মানুষ রীতিমত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গোপন সুত্রে জানা যায়, বার্মায়া শুক্কুর ও ফয়সালের বাড়িতে প্রায় সময় তাদের ধরতে অভিযান চালালেও বিভিন্ন ইন্ধনের কারনে তারা এখনো আটক হয়নি। শাহপরীরদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃংখা বাহিনীর সদস্যরা প্রায় সময় অভিযান চালিয়ে কোন না কোন পরিবারের ইয়াবা চোরাকারবারীদের আটক করলেও শুক্কুর ও ফয়সাল ইয়াবা ব্যবসায় করেও এখনো দালালের ছত্রছায়ার অধরা রয়েছে।

সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে দেড় শতাধিকের চেয়ে বেশি নিহত হলেও বাকীরা গা ঢাকা দিয়েছে এমন তথ্য রয়েছে। যদিও শাহপরীরদ্বীপের ইয়াবার ডন বার্মায়া শুক্কুর ও ফয়সাল এখনো প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে। এই নিয়ে দ্বীপবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যারা বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে মূলত ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এসব অপরাধীরা অতি কৌশলী হওয়ার ফলে থানা পুলিশ এখনো নাগাল পায়নি শুক্কুর ও ফয়সালের মত বড় রাখাল বোয়ালের। পুলিশের সাথে শাহপরীর দ্বীপের ইয়াবা গডফাদার ইব্রাহীম নিহত হলেও বাকি গডফাদার বার্মায়া শুক্কুর ও ফয়সালের মতো রাখাল বোয়াল এখনো অধরা বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার অপারেশন (ওসি) রাকিবুল ইসলাম আন্দোলন৭১ নিউজকে বলেন, তাদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। কোন ইয়াবা ব্যবসায়ীর ঠিকানা টেকনাফে হতে পারে না তাকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।

আন্দোলন৭১/কাজী

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin