বুধবার,২০ নভেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

পৃথীবির সর্ববৃহৎ দুর্গাপূজা হবে বাগেরহাটে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বার, ২০১৯ ১৮ ২৯
  • 20563 বার পঠিত

উজ্জ্বল কুমার দাস-

শরত ঋতু বিদায় লগ্নে হিম কুয়াশার আবরনের রৌদ্রজ্জল আকাশে ধূসরের আনাগোনায় হেমন্তকে ছুঁই ছুঁই করছে। এ শরতের শুভ্র মেঘের গা ঘেষে স্নিগ্ধ জোসনা ভরা নির্মল আকাশে চারদিকে সাজ সাজ রবে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গাপূজা।

এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট জেলায় দুর্গা পূজার প্রতিমা তৈরিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

খড়-মাটির উপর রঙ দিয়ে প্রতিমাগুলোকে নিপুণভাবে সাজাতে ব্যস্ত তারা। এ বছর বাগেরহাটে ৯টি উপজেলার ৬ শতাধিকের বেশি পূজা মণ্ডপে হবে শারদীয় উৎসব। আর এর মধ্যে দিয়ে বেজে উঠল বরদা ভবতারিণী মা দুর্গাদেবীর আগমনী সানাই।

বিগত বছরের ন্যায় এবারও ব্যক্তি উদ্যোগে বাগেরহাটের হাকিমপুরের শিকদার বাড়িতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে বড় পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। ৩ অক্টোবর থেকে লাখো ভক্তদের পদচারনাতে মুখরিত হয়ে উঠবে এ মন্দিরটি। এর সকল ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ হওয়া পথে।

তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমা। ছবি: আন্দোলন৭১ ডটকম

২০১০ সাল থেকে শিকদার বাড়িতে ব্যক্তি উদ্যোগে দেশের বৃহত্তম দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়। লিটন শিকদার নামে এক ব্যবসায়ী এর আয়োজন করে আসছেন। দিনদিন সেখানে প্রতিমার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০১৬ সালে প্রতিমার সংখ্যা ছিল ৬০১টি। ২০১৭ সালে ছিল ৬৫১টি, ২০১৮ সালে ছিল ৭০১টি, আর এবার এই মণ্ডপে ৮০১টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিমার সংখ্যার দিক দিয়ে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পূজামণ্ডপ বলে দাবি করেন পূজার আয়োজক ড. দুলাল শিকদার ও তার ছেলে লিটন শিকদার এবং বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনগন।

এ জেলার অন্য সকল উপজেলাগুলোতেও একি অবস্থা বিরাজ করছে।

এছাড়াও এ জেলার উল্লেখযোগ্য পূজা মন্দিরগুলোর মধ্যে রয়েছে বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের কাড়াপাড়া গ্রামের রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সার্বজনীন পূজা মন্দির, চুলকাঠি বাজারের বণিকপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির, পোলঘাট সার্বজনীন পূজা মন্দির এবং ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নের বেতাগা মমতলা সার্বজনীন পূজা মন্দির, কচুয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন পূজা মন্দির।

নির্মিত প্রতিমা। ছবি: আন্দোলন৭১ ডটকম

কচুয়া উপজেলার আনসার কমান্ডার ফিরোজা বেগম বলেন, গত বছর কচুয়া উপজেলার ৪২টি মন্দিরে কচুয়া থানা পুলিশের পাশাপাশি তাদের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়জিত ছিলেন। এবছরও তার ব্যক্তয় ঘটবে না।

মধ্য খলিশাখালি সার্বজনীন শ্রীশ্রী হরিসভা মন্দিরের পুরোহিত কিশোর চক্রবর্তীর সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, ৩ অক্টোবর বোধনের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ৪ অক্টোবর ষষ্ঠী, ৫ অক্টোবর সপ্তমী, ৬ অক্টোবর অষ্টমী, ৭ অক্টোবর নবমী, ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে দেবীকে বিসর্জ্জন দেওয়া হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সাম্প্রদায়িকতার গন্ডি পেরিয়ে বাঙ্গালীর স্মৃতিপটে ঐতিহ্যমণ্ডিত এ

দুর্গোত্সবে মমতাময় মাতা শান্তির বার্তা বয়ে আশীষ ডালি হাতে নিয়ে অভয়ের বানী শোনাতে আসবেন বাংলার শহর, নগর, বন্দর পেরিয়ে ছায়াঘেরা সুনিবিড় পল্লী প্রান্তরে। দেশ থেকে বন্ধ হবে সকল হানাহানি আকাশে বাতাসে বৈবে শান্তির সুবাতাস।

আন্দোলন৭১/এস

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Rokonuddin
Theme Developed BY Rokonuddin