বৃহস্পতিবার,১৪ নভেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

রাজমিস্ত্রির ছেলে থেকে যেভাবে নবাব হয়ে যান রাজীব

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ অক্টোবার, ২০১৯ ২৩ ৫৯
  • 510 বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি-

সম্প্রতি দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের কয়েকজন কাউন্সিলরের নাম আলোচনায় আসে। যারা নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজিহসহ নানা অপকর্মে জড়িত। যুক্ত ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গেও। 

এরপরই র‍্যাব গ্রেফতার করে ঢাকা উত্তর সিটি করপরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে।  অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আবার যারা দেশে আছেন তারা দলীয় কর্মকান্ড সীমিত করে গা ঢাকা দিয়ে চলাফেরা করছেন।

ক্যাসিনো, মাদক ব্যবসা, ফুটপাত ও পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, দখদারিত্বের সাথে জড়িত এরকম কমপক্ষে ১১ জনের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন ঢকা উত্তর সিটি করপরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডর (মোহাম্মদপুর এলাকা) কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টার পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়ি থেকে রাজীবকে আটক করেছে র‍্যাব

আরও- কাউন্সিলর রাজীব আটক

থাকতেন গ্যারেজে, ৪ বছরে ডুপ্লক্সের মালিক রাজীব

জানা যায়, রাজীব ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তার নিয়ন্ত্রণে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে অনেক জায়গায়ই ক্যাসিনো ব্যাবসা পরিচালিত হয় বলে একটি সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বছর কয়েক আগেও রাজীবের বাবা তোতা মিয়া ও তার ৩ ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এখন তাদের সবারই আছে বাড়ি-গাড়ি। কাউন্সিলর হওয়ার পর খুব অল্প সময়ে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছেন রাজীব। গত ৪ বছরে তিনি মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, ক্রাউন প্রাডোসহ ৮-১০টির বেশী নামী দামী ব্রান্ডের গাড়ি কিনেছেন। গুলশানে ফ্লাটসহ বিদেশে ফ্লাট কেনারও গুঞ্জন আছে। 

মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহব্বায়ক রাজীব এক মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে জুতা পিটা করে লাঞ্চিত করার কারণে যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিস্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে ২ কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রতি রাজীব ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। গত সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও সাবেক এক মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় নির্বাচন করে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে।

সূত্র জানায়, কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকার বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। খেলাধুলার নামে এসব ক্লাবে শুরু করেন ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড। 

সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় উঠে এসেছে কাউন্সিলর রাজীবের নাম। অনুসন্ধানে রাজীবের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো, জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারা নয়, দলীয় নেতাকর্মীরাও এসব অভিযোগ তুলেছেন।

রাজীব ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশের অভিযোগ, তিনি মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনোসহ জুয়ার আসর পরিচালনা করতেন।

আন্দোলন৭১/এস

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Rokonuddin
Theme Developed BY Rokonuddin