বুধবার,২০ নভেম্বর, ২০১৯ অপরাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বার, ২০১৯ ২০ ২১
  • 1168 বার পঠিত

ফয়সাল কবির-

দেশে উৎপাদিত সুপারির ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ উৎপাদন হচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলায়। অনুকূল আবহাওয়া ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করায় লক্ষ্মীপুরে গত কয়েক বছরের তুলনায় এই বছরও সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর লক্ষ্মীপুরে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদন হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্র জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলায় চলতি বছরে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদন হয় রায়পুর ও সদর উপজেলায়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মুল্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা।

সুপারি চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসের বৃষ্টির পানিতে সুপারি গাছে ফুল আসে। এরপর এ ফুল থেকে সৃষ্টি হয় সুপারি। আর পুরোপুরি পাকা হয়ে হলুদ রং ধারন করে কার্তিক-অগ্রহায়ন মাসে। মূলত কার্তিক-অগ্রহায়ন মাসই সুপারির ভরা মৌসুম। আবহাওয়া ভাল থাকায় এবছর সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে।

তবে শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে বড় সাইজের সুপারি প্রতি ক্রাউন্ট ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

লক্ষ্মীপুর শহরের উওর তেমুহনী, সদর উপজেলার দালাল বাজার, জকসিন বাজার, মান্দারী বাজার, চন্দ্রগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ বাজার, রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া বাজার, হাদায়ারগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা হয়।

দেখা গেছে, সুপারি বেচা-কেনায় ব্যাস্থ সময় পার করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। সুপারি ব্যবসায়ীরা প্রতি এক ক্রাউন (১২৮০) পিস বড় সাইজের সুপারি কিনছেন ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা, মাঝারি সাইজের প্রতি ক্রাউন্ট সুপারি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা ও ছোট সাইজের প্রতি ক্রাউন্ট সুপারি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনছেন।

সুপারি ব্যবসায়ী ও মান্দারী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল বাশার বাদশা, পৌর সাহাপুর গ্রামের মো. কামাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তারা আন্দোলন৭১ ডটকমকে জানান, গত কয়েক বছর থেকে এ বছর হাট বাজারে প্রচুর সুপারি এসেছে। তারা চাষীদের কাছ থেকে বিভিন্ন দামে সুপারি কেনার পর তা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।

চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও সুপারী ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ আন্দোলন৭১ ডটককে জানান, লক্ষ্মীপুর জেলায় উৎপাদিত সুপারি পানের সাথে খেতে বেশ মজাদার হওয়ায় এর চাহিদা অনেক বেশি। মৌসুমের শুরুতে তিনি লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুপারি ক্রয় করেন। পরে পরিবহনের মাধ্যমে চট্রগ্রামে নিয়ে বিভিন্ন দোকানদারের কাছে বিক্রি করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার  আন্দোলন৭১ ডটকমকে জানান, সুপারি চাষীরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে। জেলায় চলতি বছর প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদন হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Rokonuddin
Theme Developed BY Rokonuddin